হ্যাকার চক্রের অভিনব প্রতারণা: পুলিশ সেজে সাংবাদিকের নম্বর হ্যাক ও টাকা দাবি

রাজধানীতে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের অভিনব প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক গণমাধ্যমকর্মী। পুলিশ কর্মকর্তা সেজে মোবাইল নম্বর হ্যাক করার পর ভুক্তভোগীর পরিচিতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চক্রটির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, ঘটনার শুরু একটি ভিডিও কলের মাধ্যমে। স্ক্রিনে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে দেখে প্রথম দেখায় তাকে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বলে মনে হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে উত্তরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদ হিসেবে পরিচয় দেন। ফোনে অত্যন্ত আক্রোশমূলক কণ্ঠে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনার নম্বর থেকে ডিসি (উপ-পুলিশ কমিশনার) স্যারকে গালাগালি করা হয়েছে।’
সাংবাদিক কিছু বুঝে ওঠার আগেই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে কথিত ওই পুলিশ কর্মকর্তা হঠাৎ লাইনের সংযোগ কেটে দেন। এর ঠিক পরপরই সাংবাদিকের মোবাইল নম্বরটি হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
নম্বরটি হ্যাক করার পর পরই চক্রটি সাংবাদিকের পরিচিত ব্যক্তিদের টার্গেট করে কল দেওয়া শুরু করে এবং জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা দাবি করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই-একজন অপরিচিত ব্যক্তি সাংবাদিককে ফোন করে বলেন, ‘আলামিন ভাই, আপনি টাকা চেয়েছিলেন, আমরা টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।’
এ ঘটনায় তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করে ভুক্তভোগী আলামিন তাদের প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কারা? কেন টাকা পাঠিয়েছেন? আমার মোবাইল তো হ্যাক হয়েছে।’ জবাবে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘হ্যাক হয়েছে তো আমরা কী করব? আমরা টাকা পাঠিয়েছি, আমাদের টাকা ফেরত দিন। এমন অদ্ভুত আচরণে ভুক্তভোগীর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। আলামিনের ধারণা, যারা ফোন করে টাকা পাঠানোর দাবি করছে এবং ফেরত চাচ্ছে, তারাও মূলত একই হ্যাকার চক্রের সক্রিয় সদস্য। মূলত হ্যাকিংয়ের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে কোণঠাসা করতেই এই সাজানো নাটক তৈরি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সাথে সাধারণ মানুষকে এই ধরনের সাইবার অপরাধী ও ভুয়া পুলিশ চক্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রিয়

যশোরে পূজামণ্ডপে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির সাহসী পদক্ষেপ, আটক ৭

হ্যাকার চক্রের অভিনব প্রতারণা: পুলিশ সেজে সাংবাদিকের নম্বর হ্যাক ও টাকা দাবি

আপডেট : ০৪:৩৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের অভিনব প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক গণমাধ্যমকর্মী। পুলিশ কর্মকর্তা সেজে মোবাইল নম্বর হ্যাক করার পর ভুক্তভোগীর পরিচিতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চক্রটির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, ঘটনার শুরু একটি ভিডিও কলের মাধ্যমে। স্ক্রিনে পুলিশের পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে দেখে প্রথম দেখায় তাকে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বলে মনে হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে উত্তরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদ হিসেবে পরিচয় দেন। ফোনে অত্যন্ত আক্রোশমূলক কণ্ঠে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনার নম্বর থেকে ডিসি (উপ-পুলিশ কমিশনার) স্যারকে গালাগালি করা হয়েছে।’
সাংবাদিক কিছু বুঝে ওঠার আগেই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে কথিত ওই পুলিশ কর্মকর্তা হঠাৎ লাইনের সংযোগ কেটে দেন। এর ঠিক পরপরই সাংবাদিকের মোবাইল নম্বরটি হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
নম্বরটি হ্যাক করার পর পরই চক্রটি সাংবাদিকের পরিচিত ব্যক্তিদের টার্গেট করে কল দেওয়া শুরু করে এবং জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা দাবি করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই-একজন অপরিচিত ব্যক্তি সাংবাদিককে ফোন করে বলেন, ‘আলামিন ভাই, আপনি টাকা চেয়েছিলেন, আমরা টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।’
এ ঘটনায় তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করে ভুক্তভোগী আলামিন তাদের প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কারা? কেন টাকা পাঠিয়েছেন? আমার মোবাইল তো হ্যাক হয়েছে।’ জবাবে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘হ্যাক হয়েছে তো আমরা কী করব? আমরা টাকা পাঠিয়েছি, আমাদের টাকা ফেরত দিন। এমন অদ্ভুত আচরণে ভুক্তভোগীর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। আলামিনের ধারণা, যারা ফোন করে টাকা পাঠানোর দাবি করছে এবং ফেরত চাচ্ছে, তারাও মূলত একই হ্যাকার চক্রের সক্রিয় সদস্য। মূলত হ্যাকিংয়ের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এবং ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে কোণঠাসা করতেই এই সাজানো নাটক তৈরি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সাথে সাধারণ মানুষকে এই ধরনের সাইবার অপরাধী ও ভুয়া পুলিশ চক্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।