
৫ই অক্টোবর আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে নিজ কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা লিজার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাটি আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বিয়ের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় এই তরুণী শিক্ষিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে দুই পরিবারের মধ্যে চলছে কাদা-ছোড়াছুঁড়ি।
লিজার পরিবার জানান একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করা হলেও, তার স্বামী সম্পূর্ণ দায় অস্বীকার করেছেন।
লিজার স্বামী ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, গত ৫ই অক্টোবর আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে আমার ছোট বোন প্রথমে আমাকে ফোন করে জানান যে ভাবীর (লিজা) রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। আমার বোন লিজাকে অনেক ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে আমার ছোট বোন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে লিজাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত এসে লিজার গলা থেকে ওড়না খুলে এবং তাকে উদ্ধার করে সরাসরি মিটফোর্ড মেডিকেল (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) নিয়ে আসি। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে লিজাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লিজার স্বামী গণমাধ্যমকে জানান, লিজার সাথে তার কোনো ধরনের ঝগড়া-বিবাদ বা পারিবারিক কলহ ছিল না। তবে তিনি একটি বিশেষ তথ্য উল্লেখ করে বলেন, মৃত্যুর আগে শেষ তিন-চার দিন যাবত তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিল না। তবে এর পেছনে বিশেষ কোনো কারণ বা মনোমালিন্য ছিল কিনা, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি। তার দাবি, কেন লিজা এই পথ বেছে নিলেন সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
লিজার বোন গণমাধ্যমকে জানান, লিজা কোনোভাবেই আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে ছিল না। জীবন নিয়ে তার ইতিবাচক ভাবনা ছিল। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে গভীর কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। একটি বেসরকারি স্কুলে কর্মরত লিজার সহকর্মীরাও তার বোনের এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন। সহকর্মীদের মতে, লিজা অত্যন্ত মানসিকভাবে দৃঢ় এবং হাসিখুশি একজন মানুষ ছিলেন। কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যার কারণে তাকে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে হবে।
লিজার বোন আরও এক গুরুতর অভিযোগ জানান, বিয়ের পর থেকেই লিজাকে তার বাবা-মা এবং ভাই-বোনের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। লিজার স্বামী তাকে সম্পূর্ণভাবে নিজের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন। এদিকে এই মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে লিজার মা এক বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, লিজার মরদেহের পেছনের অংশে একটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে এবং তার গলাতেও আঘাতের স্পষ্ট দাগ রয়েছে। মায়ের দাবি, এই আঘাতের চিহ্নগুলোই প্রমাণ করে যে লিজাকে নির্যাতন করে হত্যা করার পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিয়ের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় এমন একটি ঘটনা ঘটায় পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখবে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছেন।















