
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত কক্ষটি বন্ধ করে দিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক।
রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া একটি অ্যাপস ব্যবহার করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পরিচালনার অভিযোগ ওঠার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা গেছে। ওই সমিতির মাধ্যমে সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাদলের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সেই সিন্ডিকেটের দুই ডজন সদস্য দিয়ে রোগী ও রোগীর স্বজনদের বিভিন্নভাবে হয়রানি মূলক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। রোগীর স্বজনরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অভিযোগে জানা গেছে, এই অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সাথে হাসপাতালের তৃতীয় শ্রেণি ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও কর্মকর্তা নেতারা জড়িত রয়েছেন। হাসপাতালের একাধিক সাধারণ কর্মচারীদের অভিযোগে আরো জানা যায়, সমিতির নেতাদের যোগসাজুশে ও তাদের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এম্বুলেন্সের সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে নিচ্ছেন। এবং সরকারি জায়গায় দখল করে অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্সের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগের সামনে দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই কক্ষ থেকে রোগীদের স্বজনদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নেওয়া হতো। একই সঙ্গে একটি অ্যাপস ব্যবহার করে অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পরিচালনা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, ঢাকা শহরের মধ্যে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে যেখানে নির্ধারিত ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অনেক ক্ষেত্রে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা বা তারও বেশি দাবি করা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর স্বজনদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কক্ষটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সরকারি হাসপাতালের ভেতরে বা এর আওতাধীন স্থানে কোনো বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অফিস পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই অ্যাম্বুলেন্স কার্যক্রমের সঙ্গে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট সমিতির অনুমোদন, অ্যাপসটির সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং অর্থ লেনদেনের বৈধতা—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন।
এদিকে ওই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কার্যক্রমের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয়ভাবে তাদের কেউ কেউ যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হলেও এ তথ্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের এমন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি কে দিয়েছে এবং রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া ভাড়ার কোনো নির্ধারিত তালিকা বা তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে কি না। পাশাপাশি কথিত অ্যাপসটির অনুমোদন, ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান এবং অর্থ লেনদেনের হিসাবও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
রোগী ও স্বজনদের স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অননুমোদিত অ্যাপস ব্যবহার কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গা ব্যবহারের অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।











