
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনালের ভেতর ও বাইরের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে । বিদেশ থেকে আগত যাত্রীরা ওই সিন্ডিকেটের কাছে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
বিমানবন্দরের গাড়ির পার্কিং এর সিন্ডিকেটের কাছেও যাত্রীরা হয়রানি শিকার হচ্ছেন এবং তাদের মালামাল খোয়াছেন । ব্যাপক চাঁদাবাজি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিমানবন্দরে সরকারি কর্মকর্তা – কর্মচারীদের মধ্যে ওই সিন্ডিকেটের সদস্য রয়েছে । সিন্ডিকেটের সদস্যরা দালালদের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বিমানবন্দর এলাকা থেকে। নিরাপত্তা কর্মীরাও যেন তাদের কাছে অসহায় । ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, বিমানবন্দরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা একের পর এক দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এইসব অপকর্মের ঘটনাগুলো দেখেও কর্তৃপক্ষ নীরবতা পালন করছেন কেন প্রশ্ন ভুক্তভোগিদের । চোখে দেখা যায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কিন্তু কার্যক্রমে তাদেরকে পাওয়া যায় না। যেখানে থাকার কথা হৈ চৈ মুক্ত পরিবেশ। সেখানেই এখন বিরাজ করছে হরেক রকম বিশৃংখলা। যা দেখে বিদেশীরা নয়, খোদ দেশের নাগরিকরাই এখন অতিষ্ঠ, ক্ষুব্ধ। আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিমামবন্দরের শৃংখলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা গেলেও এখন তাদের মধ্যও এক ধরনের ঢিলেঢালা ভাব দেখা দিয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। যার কারনে বিশৃংখলার মাত্রা দিন দিন ‘নিয়ন্ত্রণের’ বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন যাত্রী ও তাদের স্বজনরা।
গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিমানবন্দর এলাকার আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ও শেখ ফজলুল হক নান্নু নেতৃত্বে গড়ে তুলেছিলেন বিমানবন্দর এলাকার বিশাল সিন্ডিকেট সদস্য হলেন প্রায় অর্ধ্য শতাধিক । মূল হোতাদের দিক নির্দেশনা মাধ্যমে যাত্রীদেরকে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির পার্কিং নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করে তাদের মালামাল গায়েব করে দেয় । বিমানবন্দরের সকল প্রকার লেনদেন ও দখলবাদী নিয়ে প্রায় সময় তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হতো । এখনো তারা আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন বিমানবন্দর এলাকাটি। বিমানবন্দর থানার শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আলী নাঈম ওরফে নাঈম তিনি জানান, নুরুল ইসলাম মসজিদ মার্কেটে দুতলা ও তিনতলায় সজল ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছি তীব্র দিন ধরে। তার ম্যানেজার মনিরকে দিয়ে এসব দেখাশোনা করায়। এমনও দেখা গেছে নুরুল ইসলাম বিমানবন্দর ওসির সাথে খুশ গল্প আড্ডা মারছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার সত্বেও তাকে গ্রেফতার করছেন না ওসি। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারলাম ওসিকে মোটা অংকের অর্থ বিনিময়ে কার মামলাটি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন । তার হোটেলে অসামাজিক কার্যক্রমের প্রতিবাদ করাই উল্টো নুরুল ইসলাম আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার আরেক গডফাদার শেখ ফজলুল হক নান্নু ঢাকার বাইরে থেকে সিন্ডিকেটের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন । ওই গডফাদার দুইজনের অত্যাচারে বিমানবন্দর এলাকার আগত যাত্রীর ও সাধারণ মানুষরা তাদের কাছে চিনি হয়ে পড়েছেন । সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রীন চ্যানেল পার হয়ে যাত্রীরা ট্রলি ব্যাগে মালপত্র নিয়ে কর্নকর্স হল দিয়ে কেউ ১ নম্বর আবার কেউ ২ নম্বর টার্মিনাল গেট দিয়ে বের হচ্ছিলেন। এ সময় খোজ নিতে ২ নম্বর টার্মিনালে অবস্থান করার সময় দেখতে পাওয়া যায়, আগত যাত্রীদের স্বজনদের যে স্থানে অপেক্ষা করার কথা সেখানে তারা অপেক্ষা না করে চলে যাচ্ছেন বাউন্ডারী (মুল গেট) এলাকার ভেতরে। একই সাথে যাত্রীদের নিতে আসা গাড়িগুলোর লম্বা লাইন হওয়ায় ক্যানোপির বাইরের রাস্তায় গাড়ির সিরিয়াল চলে যেতে। এতে বিদেশ প্রত্যাগত, তাদের নিতে আসা লোকদের ভীড়ে পুরো এলাকা এক ধরনের বাজারের পরিবেশ তৈরী হয়। এর সাথে মাইকিং আর চিল্লাচিল্লি তো আছেই।
তবে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্য রাখতে আনসার সদস্যদের বারবার মাইকিং ও বাশি ফুকতে দেখা যায়। এই সুযোগে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা ওমান থেকে আসা এক যাত্রীর কাছে মধ্যপ্রাচ্যর যুদ্ধ ও বাংলাদেশীদের অবস্থা কেমন যাচ্ছে জানতে চেয়ে সুকৌশলী ওই যাত্রীকে তাদের গাড়ির ভিতরে তুলে ফেলেন। এরপর তারা বলেন আর কি দেখেছেন বলুন শুনি চাইলে তিনি বলেন, কোথায় যুদ্ধ? ওমানে কোন যুদ্ধ হচ্ছে না। এরপর তিনি গাড়িতে মালপত্র তুলে রওয়ানা দেন। দুবাই এর শারজাহ থেকে আসা এক যাত্রীর কাছে যুদ্ধের পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওখানে যুদ্ধ হচ্ছে এটা কিন্তু আমরা মোটেও টের পাচ্ছি না। দু একদিন পর পর একটা বোম ফোটার আওয়াজ পাই। ওখানে সব কিছু স্বাভাবিক আছে! এরপর তিনি বলেন, যুদ্ধ ওখানে নয়, যুদ্ধ আমাদের দেশে , এখানে বেশী হচ্ছে মানে। মানে আবার কি, দেখছেন না, মালপত্র নিয়ে বের হয়ে কোনমতে এখানে আসতেই কি একটা অবস্থা হচ্ছে। এটা যুূদ্ধের চাইতে কি কম? কি বাজে অবস্থা। বাজারেও এতো চিল্লাচিল্লি আর কামড়াকামড়ি নেই বলে ক্ষোভ জানান তিনি। এরমধ্য কেউ বলে, গাড়ি লাগবো। এসব সিস্টেম আর কতদিন চালাবেন আপনারা ? গাড়ির সিরিয়াল লম্বা হলেও পাশে দাড়িয়ে নীরবে ডিউটি করা আনসার সদস্য শাহিনুর এ প্রতিবেদককে বলেন, ভীড় হয় বেশী মানুষ আসার কারনে। একজন যাত্রীকে নিতে সাথে ১৩-১৪ জন আত্নীয় স্বজন আসে । তারাই টার্মিনালের মুল গেটের কাছাকাছি চলে যায় বারন করার পরও। আগে সবাই লোহার বাউন্ডারীর বাইরে থাকতো। মনে হয় কর্তৃপক্ষ তাদের ঢোকার অনুমতি দিয়েছে।
আমি নতুন এসেছি, তাই বেশী কিছু বলতে পারবো না। পুরো বিমাননবন্দর ঘুরে দেখা গেছে অনেকটাই এলোমেলো পরিবেশ। উত্তর পাশের কার পার্কিংয়ের উল্টো দিকে মুল সড়কে একাধিক মোটর সাইকেল ও দুটি গাড়ি পার্ক করা। এপিবিএনের একজন কর্তব্যরত সদস্য জোরে আওয়াজ করে জানতে চাইছিলেন, এই গাড়িগুলো কাদের। তখন কয়েকজন তরুন এসে তাকে জানান, আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন (নেতা) বড় ভাই বিদেশ থেকে আসছেন। এই কয়টা গাড়ি আমাদের। এরপর ওই এপিবিএন সদস্য সেখান থেকে চলে যান। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বিমানবন্দরের পরিবেশ ফেরাতে হলে সংশ্লিষ্টদের আরো কঠোর হতে হবে। নতুবা মানবিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলাদেশ নিয়ে সুখী সমৃদ্ধ দেশ গঠনে যে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন, তা করতে পদে পদে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাদের মতে, দেশটা সুন্দর হলে তখন সবারই ভালো লাগবে। প্রিন্স জানান, তাদের অত্যাচারে গত ১৭ বছর বিমানবন্দরের কোন প্রকার কাজ কাম নিয়ে যেতে পারতাম না। সরকার পরিবর্তন হলো ধন্যবাদ তারা সিন্ডিকেট গড়ে একের পর এক দুর্নীতি অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই আমাদের সেভাবেই সবাইকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। তবেই কাংখিত গন্তব্য পৌছা সম্ভব হবে। ভুক্তভোগীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যদি সচেষ্টা থাকে তাহলে সম্ভব হবে নতুবা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে থাকতে হবে। এতে করে বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।















