মিরপুর মেট্রো – সার্কেল -১ বিআরটিএতে ফিটনেস শাখার কর্মকর্তারা দুর্নীতি- অপকর্মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ গড়েছেন, তাদের ছত্রছায়ায় দালাল জামাই রতন ও রুবেলের দাপট, দেড়যুগ ধরে দালালি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন

রাজধানীর মিরপুর -১৩, ঢাকা মেট্রো – সার্কেলে-১ বিআরটিএ’র অফিসে বছর পর বছর ধরে ফিটনেস শাখায় কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় সক্রিয় দালাল চক্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বহুল আলোচিত ব্যক্তি –মোহাম্মদ রতন ওরফে জামাই রতন ও মোহাম্মদ রুবেল ওরফে দূরদর্শী রুবেল ।

বিআরটিএতে তাদের ভাব দেখে আগত গ্রাহকরা মনে করেন তারা বিআরটিএ’র কর্মকর্তা হবেন । অর্থের বিনিময়ে কাজ করার সময় গ্রাহকরা বুঝতে পারেন তারা কোনো কর্মকর্তা নয় । জামাই রতন ও দূরদর্শী রুবেল দালাল হিসেবে পরিচিত। তারা সুকৌশলে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে গ্রাহকদের তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ফিটনেস শাখার সহকারি মোটরযান পরিদর্শক (মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) মোহাম্মদ সিফাতের কাছে গাড়ির কাগজপত্র জমা দেয়। দালাল জামাই রতন ও রুবেল দুইজনে গ্রাহকদেরকে বিভিন্নভাবে কথাবার্তা বলে সুকৌশলে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা তাদের কথাবার্তা শুনে অর্থ দিতে বাধ্য হয়। দালালরা তাদের দাবিকৃত পরিমাণে অর্থ পেয়ে গাড়ির কাগজপত্র ঠিক করতে চলে যান ফিটনেস শাখার সহকারি মোটরযান পরিদর্শক সিফাতের কাছে। তাদের মধ্যে লেনদেন ওকে হলে তখন সিফাত ও মোটরযান পরিদর্শক রঞ্জিত হালদার এর মাধ্যমে গাড়ির কাগজপত্র সম্পূর্ণ করা হয়। ফিটনেস শাখার দায়িত্ব সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান শেখ এইসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কোন প্রকার কর্ণপাত করছেন না। তার অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারী দালালের মাধ্যমে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেই চলছে। কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এ ভাবেই দুই দালাল বছরে পর বছর বিআরটিএতে ফিটনেস শাখাসহ বিভিন্ন শাখা গুলোতে জামাই রতন ও রুবেল নামের দুই দালাল কাজ করছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দালাল জামাই রতন বিআরটিএতে দেড়যুগ ধরে দালালি কাজ করে মিরপুর এভিনিউ ফাইভ এলাকার একটি জামে মসজিদের পাশে তিন তলা একটি ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । দালাল রুবেলও মিরপুর বিআরটিএতে দালালি কাজ করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে । এই দুই দালাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দালালি কাজ করতে থাকে। মোটরযান পরিদর্শক রঞ্জিত ও সহকারি মোটরযান পরিদর্শক সিফাত এই কর্মকর্তারা ওই দালালদের মাধ্যমে গ্রাহকদেরকে ঠকিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগে জানা গেছে, সহকারী পরিচালক ইমরান শেখের প্রশ্রয়ে তারা একের পর এক দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে । ইমরান শেখ ছয় তলা বাড়িসহ অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।দালালদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিআরটিএতে দেখার কেউ নেই ! তারা কাউকে পরওয়ার করে না । দালাল দুইজন সার্বক্ষণিক গ্রাহকদের গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। দালালরা সার্বক্ষণিক উৎপেতে থাকে কখন গ্রাহক আসবে এবং তাদের মাধ্যমে কাজ করাবে। আগের থেকে দালালরা অফিসারকে ম্যানেজ করে রেখে দেন। গাড়ির কাগজপত্র দালাল জামাই রতন ও দূরদর্শী রুবেল হাতে নিয়ে ওলট-পালট করে দেখে গ্রাহকদেরকে বলেন আপনারা একটু অপেক্ষা করুন আমি স্যারকে দেখাচ্ছি কাগজপত্র সঠিক আছে কিনা । কিছুক্ষণ পরে এসে দালালরা গ্রাহকদেরকে বুঝান আপনার কাগজপত্র বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। তবে মোটা অংকের অর্থ দিলে কাগজপত্র ঠিক করে দিব। এভাবেই চলে তাদের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড। ভুক্তভোগী আবুল হোসেন নামের একজন গ্রাহক গাড়ির ফিটনেসসহ বিভিন্ন শাখায় কাগজপত্র ঠিক করতে এসে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হইতে হচ্ছে। অনেকদিন ঘোরাঘুরি করে কাজের কোন সমাধান না করতে পেরে এক পর্যায়ে দালালদের ধর্না ধরতে হয়।

সেই কাজ অর্থের বিনিময়ে একদিনেই হয়ে যায় । এরকম হাজারো গ্রাহক প্রতিনিয়তই হয়রানি শিকার হচ্ছেন । এই সুযোগটাই দালালরা কাজে লাগাচ্ছেন। বিআরটিএ’র আশপাশের বিভিন্ন ধরনের দোকানে দালালদের আড্ডাখানা। অভিযোগে আরো জানা গেছে, দালাল জামাই রতন ও রুবেল বিভিন্ন দলের নেতাদের পরিচয় দিয়ে বিআরটিএতে দালালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দালাল জামাই রতন ও দূরদর্শী রুবেল দাপটের সঙ্গে সরকারি অফিসে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিআরটিএ’র আধিপত্য নিয়েও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তারা নিজেরাই দালালদের গডফাদার হিসেবে পরিচিত এবং দালালদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে । ফিটনেস শাখাসহ বিআরটিএ’র এমন কোন বিভাগ নেই যে তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সিএনজি অটো রিক্সা সহ সব ধরনের যানবাহনের কাজ করে থাকে।বিশেষ করে ফিটনেস শাখার ১২৭ নম্বর কক্ষে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দালালদের আনাগোনা থাকে । সরকারি সময়ের বাইরেও সিল মারার কাজ করে চলছে দালাল জামাই রতন ও রুবেল। সহকারী মোটরযান পরিদর্শক সিফাত ও মোটরযান পরিদর্শক রনজিতের ছত্রছায়ায় চলছে এ অপকর্ম। সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান শেখ বিরুদ্ধেও দুর্নীতির ও অপকর্মের মাধ্যমে অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিআরটিএ’র সূত্রে জানা গেছে, দালাল জামাই রতন ও রুবেল প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ফিটনেস সেবা সংক্রান্ত দালালি মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা সরাসরি অফিস রুমে প্রবেশ করে ফাইল আদান-প্রদান এবং সিল সংগ্রহ করলেও কোনো কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না। বরং কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তাদের অপকর্মের প্রমাণ হিসেবে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে। তারা ভয়ভীতি ও পরবর্তীতে ক্ষতির হুমকি দিচ্ছি একের পর এক । অথচ তারা দালালি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন। বিআরটিএ এলাকায় প্রশাসনের ডিউটি থাকার কালেও দালালরা একের পর এক অপকর্মের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে । তারা দেড়যুগ ধরে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে বেআইনি ভাবে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, বিআরটিএ’র দালাল জামাই রতন ও দূরদর্শী রুবেল কোন দলের সাথে জড়িত নয়। তারা যদি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করতে যায় তাহালে তাকে প্রশাসনিক লোকজনের কাছে সোপর্দ করার জন্য বলেছেন।এখন প্রশ্ন হলো দালাল জামাই রতন ও রুবেল কিভাবে বছরের পর বছর দাপটে সাথে কাজ করে যেতে পারে? তাদের পেছনে কারা ছায়া দিয়ে যাচ্ছেন? বিআরটিএ কর্মকর্তারা কেন মুখ বন্ধ করে আছেন? নাম প্রকাশের অনিচ্ছু বিআরটিএ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, দালাল জামাই রতন ও দূরদর্শী রুবেলকে নিয়ে আমরা অনেক আতঙ্কিত আছি। তাদের বিরুদ্ধে কোন কিছু বলা যাচ্ছে না।এই চক্রের মূল হোতা বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিভিন্ন দলের নাম পরিচয় ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সেবার নামে চাঁদাবাজির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ জরুরী। এ ব্যাপারে ফিটনেস শাখার সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান শেখ কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি এইসব কিছু জানিনা আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না। আমার পরিচালক ও উপ পরিচালক রয়েছে তাদের সাথে কথা বলুন। দালালদের এবং কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অপকর্মের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দালালদের

চিনি না।তার কাছে যে কেউ কোন তথ্য জানতে চাইলে তখন তিনি বলেন বিআরটিএ নিয়ন্ত্রণকারী নেতা “এস” এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তার কাছে জানতে চাইলে “এস” কি সবাই তাকে চিনে ।

জনপ্রিয়

যশোরে পূজামণ্ডপে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির সাহসী পদক্ষেপ, আটক ৭

মিরপুর মেট্রো – সার্কেল -১ বিআরটিএতে ফিটনেস শাখার কর্মকর্তারা দুর্নীতি- অপকর্মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ গড়েছেন, তাদের ছত্রছায়ায় দালাল জামাই রতন ও রুবেলের দাপট, দেড়যুগ ধরে দালালি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন

আপডেট : ০৪:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর -১৩, ঢাকা মেট্রো – সার্কেলে-১ বিআরটিএ’র অফিসে বছর পর বছর ধরে ফিটনেস শাখায় কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় সক্রিয় দালাল চক্রের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বহুল আলোচিত ব্যক্তি –মোহাম্মদ রতন ওরফে জামাই রতন ও মোহাম্মদ রুবেল ওরফে দূরদর্শী রুবেল ।

বিআরটিএতে তাদের ভাব দেখে আগত গ্রাহকরা মনে করেন তারা বিআরটিএ’র কর্মকর্তা হবেন । অর্থের বিনিময়ে কাজ করার সময় গ্রাহকরা বুঝতে পারেন তারা কোনো কর্মকর্তা নয় । জামাই রতন ও দূরদর্শী রুবেল দালাল হিসেবে পরিচিত। তারা সুকৌশলে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে গ্রাহকদের তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ফিটনেস শাখার সহকারি মোটরযান পরিদর্শক (মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) মোহাম্মদ সিফাতের কাছে গাড়ির কাগজপত্র জমা দেয়। দালাল জামাই রতন ও রুবেল দুইজনে গ্রাহকদেরকে বিভিন্নভাবে কথাবার্তা বলে সুকৌশলে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা তাদের কথাবার্তা শুনে অর্থ দিতে বাধ্য হয়। দালালরা তাদের দাবিকৃত পরিমাণে অর্থ পেয়ে গাড়ির কাগজপত্র ঠিক করতে চলে যান ফিটনেস শাখার সহকারি মোটরযান পরিদর্শক সিফাতের কাছে। তাদের মধ্যে লেনদেন ওকে হলে তখন সিফাত ও মোটরযান পরিদর্শক রঞ্জিত হালদার এর মাধ্যমে গাড়ির কাগজপত্র সম্পূর্ণ করা হয়। ফিটনেস শাখার দায়িত্ব সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান শেখ এইসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কোন প্রকার কর্ণপাত করছেন না। তার অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারী দালালের মাধ্যমে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেই চলছে। কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এ ভাবেই দুই দালাল বছরে পর বছর বিআরটিএতে ফিটনেস শাখাসহ বিভিন্ন শাখা গুলোতে জামাই রতন ও রুবেল নামের দুই দালাল কাজ করছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দালাল জামাই রতন বিআরটিএতে দেড়যুগ ধরে দালালি কাজ করে মিরপুর এভিনিউ ফাইভ এলাকার একটি জামে মসজিদের পাশে তিন তলা একটি ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে । দালাল রুবেলও মিরপুর বিআরটিএতে দালালি কাজ করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে । এই দুই দালাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দালালি কাজ করতে থাকে। মোটরযান পরিদর্শক রঞ্জিত ও সহকারি মোটরযান পরিদর্শক সিফাত এই কর্মকর্তারা ওই দালালদের মাধ্যমে গ্রাহকদেরকে ঠকিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগে জানা গেছে, সহকারী পরিচালক ইমরান শেখের প্রশ্রয়ে তারা একের পর এক দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে । ইমরান শেখ ছয় তলা বাড়িসহ অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।দালালদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিআরটিএতে দেখার কেউ নেই ! তারা কাউকে পরওয়ার করে না । দালাল দুইজন সার্বক্ষণিক গ্রাহকদের গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। দালালরা সার্বক্ষণিক উৎপেতে থাকে কখন গ্রাহক আসবে এবং তাদের মাধ্যমে কাজ করাবে। আগের থেকে দালালরা অফিসারকে ম্যানেজ করে রেখে দেন। গাড়ির কাগজপত্র দালাল জামাই রতন ও দূরদর্শী রুবেল হাতে নিয়ে ওলট-পালট করে দেখে গ্রাহকদেরকে বলেন আপনারা একটু অপেক্ষা করুন আমি স্যারকে দেখাচ্ছি কাগজপত্র সঠিক আছে কিনা । কিছুক্ষণ পরে এসে দালালরা গ্রাহকদেরকে বুঝান আপনার কাগজপত্র বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে। তবে মোটা অংকের অর্থ দিলে কাগজপত্র ঠিক করে দিব। এভাবেই চলে তাদের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড। ভুক্তভোগী আবুল হোসেন নামের একজন গ্রাহক গাড়ির ফিটনেসসহ বিভিন্ন শাখায় কাগজপত্র ঠিক করতে এসে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হইতে হচ্ছে। অনেকদিন ঘোরাঘুরি করে কাজের কোন সমাধান না করতে পেরে এক পর্যায়ে দালালদের ধর্না ধরতে হয়।

সেই কাজ অর্থের বিনিময়ে একদিনেই হয়ে যায় । এরকম হাজারো গ্রাহক প্রতিনিয়তই হয়রানি শিকার হচ্ছেন । এই সুযোগটাই দালালরা কাজে লাগাচ্ছেন। বিআরটিএ’র আশপাশের বিভিন্ন ধরনের দোকানে দালালদের আড্ডাখানা। অভিযোগে আরো জানা গেছে, দালাল জামাই রতন ও রুবেল বিভিন্ন দলের নেতাদের পরিচয় দিয়ে বিআরটিএতে দালালের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দালাল জামাই রতন ও দূরদর্শী রুবেল দাপটের সঙ্গে সরকারি অফিসে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিআরটিএ’র আধিপত্য নিয়েও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তারা নিজেরাই দালালদের গডফাদার হিসেবে পরিচিত এবং দালালদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে । ফিটনেস শাখাসহ বিআরটিএ’র এমন কোন বিভাগ নেই যে তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সিএনজি অটো রিক্সা সহ সব ধরনের যানবাহনের কাজ করে থাকে।বিশেষ করে ফিটনেস শাখার ১২৭ নম্বর কক্ষে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দালালদের আনাগোনা থাকে । সরকারি সময়ের বাইরেও সিল মারার কাজ করে চলছে দালাল জামাই রতন ও রুবেল। সহকারী মোটরযান পরিদর্শক সিফাত ও মোটরযান পরিদর্শক রনজিতের ছত্রছায়ায় চলছে এ অপকর্ম। সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান শেখ বিরুদ্ধেও দুর্নীতির ও অপকর্মের মাধ্যমে অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিআরটিএ’র সূত্রে জানা গেছে, দালাল জামাই রতন ও রুবেল প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ফিটনেস সেবা সংক্রান্ত দালালি মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা সরাসরি অফিস রুমে প্রবেশ করে ফাইল আদান-প্রদান এবং সিল সংগ্রহ করলেও কোনো কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না। বরং কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তাদের অপকর্মের প্রমাণ হিসেবে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে। তারা ভয়ভীতি ও পরবর্তীতে ক্ষতির হুমকি দিচ্ছি একের পর এক । অথচ তারা দালালি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন। বিআরটিএ এলাকায় প্রশাসনের ডিউটি থাকার কালেও দালালরা একের পর এক অপকর্মের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে । তারা দেড়যুগ ধরে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের নাম ভাঙ্গিয়ে বেআইনি ভাবে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, বিআরটিএ’র দালাল জামাই রতন ও দূরদর্শী রুবেল কোন দলের সাথে জড়িত নয়। তারা যদি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করতে যায় তাহালে তাকে প্রশাসনিক লোকজনের কাছে সোপর্দ করার জন্য বলেছেন।এখন প্রশ্ন হলো দালাল জামাই রতন ও রুবেল কিভাবে বছরের পর বছর দাপটে সাথে কাজ করে যেতে পারে? তাদের পেছনে কারা ছায়া দিয়ে যাচ্ছেন? বিআরটিএ কর্মকর্তারা কেন মুখ বন্ধ করে আছেন? নাম প্রকাশের অনিচ্ছু বিআরটিএ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, দালাল জামাই রতন ও দূরদর্শী রুবেলকে নিয়ে আমরা অনেক আতঙ্কিত আছি। তাদের বিরুদ্ধে কোন কিছু বলা যাচ্ছে না।এই চক্রের মূল হোতা বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিভিন্ন দলের নাম পরিচয় ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সেবার নামে চাঁদাবাজির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ জরুরী। এ ব্যাপারে ফিটনেস শাখার সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান শেখ কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি এইসব কিছু জানিনা আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না। আমার পরিচালক ও উপ পরিচালক রয়েছে তাদের সাথে কথা বলুন। দালালদের এবং কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অপকর্মের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দালালদের

চিনি না।তার কাছে যে কেউ কোন তথ্য জানতে চাইলে তখন তিনি বলেন বিআরটিএ নিয়ন্ত্রণকারী নেতা “এস” এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তার কাছে জানতে চাইলে “এস” কি সবাই তাকে চিনে ।