ঢাকা মেডিকেল’কে গিলে খাচ্ছে ঔষধ কোম্পানি:সহযোগিতায় মেডিকেল স্টাফ

  • রিপোর্টার
  • আপডেট : ০৩:৪৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • ৪২৯ পড়া হয়েছে

এস এ শাওন ঃ- এ যেন ব্যাঙের মুখে সাপ, প্রতিষ্ঠানের নিয়মে স্টাফ না চললেও, স্টাফদের নিয়মে প্রতিষ্ঠান চলছে। যেমনটা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে মাথা বেচার অভিযোগ উঠেছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায় বহির্বিভাগের দ্বিতীয় তলায় নাক, কান, গলা শাখার টিকিট কাউন্টারে বসে মিন্টু নিপ্রো(Nipro) জেএমআই ফার্মা লিমিটেড কোম্পানির দুজন প্রতিনিধিকে খাতায় রেজিস্টার সহ সরকারি সিল মেরে বহির্বিভাগের অসংখ্য টিকিট তাদের কাছে রাখতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ঔষধ কোম্পানির মিন্টুকে জিজ্ঞাসা করলে তৎক্ষণাৎ তারা সেখান থেকে উঠে চলে যান।

 

সেখানে ডিউটিরত সরকারি স্টাফ বাবুল ও রাহাতকে প্রশ্ন করলে তিনি ‘প্রতিদিনের আলো’কে বলেন, আমরা তাদেরকে কিছুই বলি না, তারা নিজেরা এসেই সিল দিয়ে নিয়ে যায়। এবং  তারা এখানে বসে খাতায় রেজিস্টার করছে।

 

পরবর্তীতে নিপ্রো(Nipro) কোম্পানির মিন্টুর কাছে টিকিটের কথা জানতে চাইলে বলে আমরা এই টিকিটগুলো নীলক্ষেত থেকে ফটোকপি করে নিয়ে আসি, এরপরে এই টিকিটগুলোতে কাউন্টারে এসে টিকিটের উপর সিল নিজেরাই দিয়ে নেই। প্রতিদিনের আলো মিন্টুকে  জিজ্ঞেস করা হলো, কাউন্টারের লোক আপনাদের কিছু বলে না মিন্টু বলল তাদেরকে আমরা যারা ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আছি সবাই এবং বহির্বিভাগের আনসারসহ প্রত্যেকটা কাউন্টারে এবং ডাক্তারদের নানান  গিফট দিয়ে খুশি করি তাই আমাদের কিছু বলে না।

 

জেএমআই ফার্মা লিমিটেড, এস কে এফ কোম্পানির, নিপ্রো(Nipro), মো: মিন্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আরো কিছু তথ্য পেতে তার সাথে সাক্ষাতের দিন ধার্য হয় ঢাকা মেডিকেলে যে কোন স্থানে। পূর্বের কথা অনুযায়ী নিপ্রো কোম্পানির প্রতিনিধি মিন্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কোথায় দেখা করব জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেডিকেলের জরুরী বিভাগের পাশে আসতে বলেন।

 

যে কথা সেই কাজ, তার সাথে সাক্ষাতের জন্য জরুরীবিভাগে যায়। তখন তার সাথে উপস্থিত ছিলেন নিপ্রো, জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার মো:আমিনুল ইসলাম। মোঃ মিন্টুর সাথে কথা বলতে চাইলে নিপ্রো কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার বলল আপনি আমার সাথে কথা বলেন। সে অনুযায়ী এরিয়া ম্যানেজার আমিনুলের সাথে কথা বলা শুরু করতেই পাশ থেকে কথা বলার একপর্যায়ে দৈনিক সকালে সময় পত্রিকার রিপোর্টারে হেনস্তা করা এরিয়া ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম ও সোহাগ। সোহাগ  নিপ্রো (nipro) কোম্পানির সোহাগ ঝিনাইদহ শৈলকুপা বাড়ি, সোহাগের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সেশন ২২-২৩, সোহাগ আবার পরিচয় দেয় আমি মিরপুর বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। এবং একপর্যায়ে দেখা যায় আশে-পাশে আরো ৮-১০ জন ঔষধ কোম্পানির লোক ঘিরে দৈনিক সকালের সময়  পত্রিকার সাংবাদিক কের পকেটে থাকা মোবাইলে ভিডিও করা হচ্ছে সন্দেহ করে তার নিকট থেকে মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক তাদের হাতে নেয়ার চেষ্টা করেন।

 

এমনকি এরিয়া ম্যানেজার আমিনুল একাধিকবার চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে সেখানে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এবং চাঁদাবাজ হিসেবে তার সাথে আসা লোকদেরকে আমার ভিডিও ধারণ করতে বলেন। এক পর্যায়ে ঢাকা মেডিকেলের রিপোর্টার এনটিভির আল- আমিন ও প্রতিদিনের আলোর সহকর্মী শাওন আসলে তারা আর কথা না বাড়িয়ে এরিয়া ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বলেন প্রতিদিনের আলোকে  নিউজ কইরেন না, আপনাকেও খুশি করব।

 

প্রতিদিনের আলো আমিনুল কে জিজ্ঞেস করলেন, এভাবে খুশির প্রস্তাব কোন কোন ডিপার্টমেন্টে দিয়ে থাকেন, আমিনুল বললো আমরা গাড়ি রাখা বাবদ আনসার সদস্যদের ৭০০ টাকা দিয়ে থাকি। ঢাকা মেডিকেলের সরকারি স্টাফদের কে দেই এবং ডাক্তারদেরকেও দিয়ে থাকে।

 

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার জিল্লুর রহমানের সাথে দেখা করলে তিনি ‘প্রতিদিনের আলো’কে বলেন, পরিচালক স্যারের অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই বলতে পারব না।

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়মিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ ও তাদের সিল মারার বিষয়ে মন্তব্য জানতে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান এর সাথে দেখা করলে ‘প্রতিদিনের আলো’কে বলেন, আমি যখন বহির্বিভাগে পরিদর্শনে যাই তখন ঔষধ কোম্পানির লোক থাকে না, আবার আমি চলে আসার পর সবাই মেডিকেলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রবেশ করে। তাছাড়াও ডাক্তারদের সম্মতি ছাড়া তারা কিভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে পারেন।

জনপ্রিয়

যশোরে পূজামণ্ডপে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির সাহসী পদক্ষেপ, আটক ৭

ঢাকা মেডিকেল’কে গিলে খাচ্ছে ঔষধ কোম্পানি:সহযোগিতায় মেডিকেল স্টাফ

আপডেট : ০৩:৪৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

এস এ শাওন ঃ- এ যেন ব্যাঙের মুখে সাপ, প্রতিষ্ঠানের নিয়মে স্টাফ না চললেও, স্টাফদের নিয়মে প্রতিষ্ঠান চলছে। যেমনটা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে মাথা বেচার অভিযোগ উঠেছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায় বহির্বিভাগের দ্বিতীয় তলায় নাক, কান, গলা শাখার টিকিট কাউন্টারে বসে মিন্টু নিপ্রো(Nipro) জেএমআই ফার্মা লিমিটেড কোম্পানির দুজন প্রতিনিধিকে খাতায় রেজিস্টার সহ সরকারি সিল মেরে বহির্বিভাগের অসংখ্য টিকিট তাদের কাছে রাখতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ঔষধ কোম্পানির মিন্টুকে জিজ্ঞাসা করলে তৎক্ষণাৎ তারা সেখান থেকে উঠে চলে যান।

 

সেখানে ডিউটিরত সরকারি স্টাফ বাবুল ও রাহাতকে প্রশ্ন করলে তিনি ‘প্রতিদিনের আলো’কে বলেন, আমরা তাদেরকে কিছুই বলি না, তারা নিজেরা এসেই সিল দিয়ে নিয়ে যায়। এবং  তারা এখানে বসে খাতায় রেজিস্টার করছে।

 

পরবর্তীতে নিপ্রো(Nipro) কোম্পানির মিন্টুর কাছে টিকিটের কথা জানতে চাইলে বলে আমরা এই টিকিটগুলো নীলক্ষেত থেকে ফটোকপি করে নিয়ে আসি, এরপরে এই টিকিটগুলোতে কাউন্টারে এসে টিকিটের উপর সিল নিজেরাই দিয়ে নেই। প্রতিদিনের আলো মিন্টুকে  জিজ্ঞেস করা হলো, কাউন্টারের লোক আপনাদের কিছু বলে না মিন্টু বলল তাদেরকে আমরা যারা ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আছি সবাই এবং বহির্বিভাগের আনসারসহ প্রত্যেকটা কাউন্টারে এবং ডাক্তারদের নানান  গিফট দিয়ে খুশি করি তাই আমাদের কিছু বলে না।

 

জেএমআই ফার্মা লিমিটেড, এস কে এফ কোম্পানির, নিপ্রো(Nipro), মো: মিন্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আরো কিছু তথ্য পেতে তার সাথে সাক্ষাতের দিন ধার্য হয় ঢাকা মেডিকেলে যে কোন স্থানে। পূর্বের কথা অনুযায়ী নিপ্রো কোম্পানির প্রতিনিধি মিন্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করে কোথায় দেখা করব জানতে চাইলে তিনি ঢাকা মেডিকেলের জরুরী বিভাগের পাশে আসতে বলেন।

 

যে কথা সেই কাজ, তার সাথে সাক্ষাতের জন্য জরুরীবিভাগে যায়। তখন তার সাথে উপস্থিত ছিলেন নিপ্রো, জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার মো:আমিনুল ইসলাম। মোঃ মিন্টুর সাথে কথা বলতে চাইলে নিপ্রো কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার বলল আপনি আমার সাথে কথা বলেন। সে অনুযায়ী এরিয়া ম্যানেজার আমিনুলের সাথে কথা বলা শুরু করতেই পাশ থেকে কথা বলার একপর্যায়ে দৈনিক সকালে সময় পত্রিকার রিপোর্টারে হেনস্তা করা এরিয়া ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম ও সোহাগ। সোহাগ  নিপ্রো (nipro) কোম্পানির সোহাগ ঝিনাইদহ শৈলকুপা বাড়ি, সোহাগের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সেশন ২২-২৩, সোহাগ আবার পরিচয় দেয় আমি মিরপুর বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। এবং একপর্যায়ে দেখা যায় আশে-পাশে আরো ৮-১০ জন ঔষধ কোম্পানির লোক ঘিরে দৈনিক সকালের সময়  পত্রিকার সাংবাদিক কের পকেটে থাকা মোবাইলে ভিডিও করা হচ্ছে সন্দেহ করে তার নিকট থেকে মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক তাদের হাতে নেয়ার চেষ্টা করেন।

 

এমনকি এরিয়া ম্যানেজার আমিনুল একাধিকবার চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে সেখানে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এবং চাঁদাবাজ হিসেবে তার সাথে আসা লোকদেরকে আমার ভিডিও ধারণ করতে বলেন। এক পর্যায়ে ঢাকা মেডিকেলের রিপোর্টার এনটিভির আল- আমিন ও প্রতিদিনের আলোর সহকর্মী শাওন আসলে তারা আর কথা না বাড়িয়ে এরিয়া ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বলেন প্রতিদিনের আলোকে  নিউজ কইরেন না, আপনাকেও খুশি করব।

 

প্রতিদিনের আলো আমিনুল কে জিজ্ঞেস করলেন, এভাবে খুশির প্রস্তাব কোন কোন ডিপার্টমেন্টে দিয়ে থাকেন, আমিনুল বললো আমরা গাড়ি রাখা বাবদ আনসার সদস্যদের ৭০০ টাকা দিয়ে থাকি। ঢাকা মেডিকেলের সরকারি স্টাফদের কে দেই এবং ডাক্তারদেরকেও দিয়ে থাকে।

 

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার জিল্লুর রহমানের সাথে দেখা করলে তিনি ‘প্রতিদিনের আলো’কে বলেন, পরিচালক স্যারের অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই বলতে পারব না।

ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অনিয়মিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ ও তাদের সিল মারার বিষয়ে মন্তব্য জানতে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান এর সাথে দেখা করলে ‘প্রতিদিনের আলো’কে বলেন, আমি যখন বহির্বিভাগে পরিদর্শনে যাই তখন ঔষধ কোম্পানির লোক থাকে না, আবার আমি চলে আসার পর সবাই মেডিকেলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রবেশ করে। তাছাড়াও ডাক্তারদের সম্মতি ছাড়া তারা কিভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে পারেন।