
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (LDDP) মেয়াদ শেষ হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের ৪,২০০ জন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি)। আগামী ৭ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন ভিত্তিক স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করা হলে আমরণ অনশন ও ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ‘বাংলাদেশ এলএসপি ঐক্য পরিবার’।
সম্প্রতি খামারবাড়িস্থ ডিএলএস চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ শরীফ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৭ বছর ধরে এই প্রশিক্ষিত ৪,২০০ জন এলএসপি মাঠ পর্যায়ে প্রাণিজ আমিষ বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং খুরা রোগ (FMD), লাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD) ও এনথ্রাক্সের মতো মরণব্যাধি নিয়ন্ত্রণে নিরলস কাজ করে আসছেন। এছাড়া তাদের মাধ্যমেই সারাদেশে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার খামারিকে নিয়ে ৬,৫০০টি উৎপাদনকারী দল (PG) গঠন করা হয়েছে। এসব খামারিদের জমানো সঞ্চয়ের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে জমা রয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। এর আগে কর্মসংস্থানের দাবিতে তারা প্রধানমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে দুইবার সুপারিশ (ফরওয়ার্ডিং) পাঠানো হলেও এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “আমরা করুণা চাই না, কর্মসংস্থান চাই। মাঠ পর্যায়ের ৮০ শতাংশ কাজ আমরা সফলভাবে করেছি। এখন আমাদের বেকারত্বের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে দাবি আদায় না হলে আমরা আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল প্রাণিসম্পদ কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিচ্ছি।”
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আন্দোলনরত এলএসপিরা। তাদের মূল স্লোগান ছিল— “বাঁচে খামারি, বাঁচে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”













