
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর থানাধীন এলাকার বশির মিয়া’কে গুরুতর জখম করে হত্যা মামলার ০৭ (সাত) জন এজাহার নামীয় আসামিদেরকে ঢাকা মহানগরীর পল্টন এবং রমনা থানাধীন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩।
১। র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনির্মাণের জন্য র্যাবের জোরালো তৎপরতা অব্যাহত আছে। এছাড়াও বিভিন্ন হত্যাকান্ডের দীর্ঘদিন যাবৎ আত্মগোপনে থাকা বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনপূর্বক হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে র্যাব সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
২। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর পল্টন এবং রমনা থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর থানাধীন এলাকার বশির মিয়া’কে গত ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ গুরুতর জখম করে হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ১নং আসামি হায়দার আলী (৬০), ২নং আসামি জমশেদ আলী (৫৫), উভয়পিতাঃ মৃত ইউসুফ আলী, ৩নং আসামি আলমগীর মিয়া (৪০), ৫নং আসামি তারেক মিয়া (৩৫), উভয়পিতাঃ হায়দার আলী, ৮নং আসামি রেনু মিয়া (৫০), পিতাঃ মৃত তারা মিয়া, ৯নং আসামি রমজান মিয়া (৪০), পিতাঃ ওমরাজ মিয়া এবং ১৩নং আসামি আরমান মিয়া (৩৫), পিতাঃ রব মিয়া, সর্বসাং-খাগালিয়া (লম্বাপাড়া), থানাঃ নাসিরনগর, জেলাঃ ব্রাক্ষণবাড়িয়াদের’কে ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ ১০৪৫ ঘটিকায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
৩। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর থানাধীন খাগালিয়া গ্রামের লম্বাপাড়া এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিম বশির মিয়া ও ধৃত আসামিদের মাঝে বিরোধ চলে আসছিল। ধৃত আসামিরা ভিকটিমকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন ও জখম করার সুযোগ খুঁজিতে থাকে। পরবর্তীতে গত ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ আনুমানিক দুপুর ১২৪৫ ঘটিকার সময় ধৃত আসামিরা দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র দা, লোহার রড, পাইপ, লাঠি, কুইচ ও বল্লম নিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে আক্রমণ করে। ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরে এলোপাথারি কিল, ঘুষি, লাথিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের মাধ্যমে গুরুতর জখম করে। আঘাতের এক পর্যায়ে ভিকটিম বশির মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে ধৃত আসামিগণ ভিকটিমের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উক্ত স্থান ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার ভিকটিমকে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করে। উক্ত ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হলে র্যাব-৩ কর্তৃক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত বাকী আসামিদের গ্রেফতারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
৪। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।










