জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুড়িয়ে দেওয়া হবে: র‍্যাব মহাপরিচালক

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর বর্তমানে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। খুব শিগগিরই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী এবং অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে।

 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ এর প্রধান কার্যালয়ে হামলায় নিহত র‍্যাব কর্মকর্তা শহীদ মোতালেব হোসেনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, “সুবেদার মোতালেব হোসেন শহীদ হয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি র‍্যাব মনিটরিং করবে।
তিনি আরও বলেন, “শহীদ মোতালেবের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা তাকে ফিরিয়ে দিতে পারব না, তবে তার পরিবারের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করেছি এবং সবসময় তাদের পাশে থাকব।”
উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র‍্যাবের আরও তিন সদস্য এবং ‘মনা’ নামের একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ, র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন বিকেলে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। এ উপলক্ষে সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়। রুকন গ্রুপের অনুসারী ও র‍্যাবের সোর্স মনা র‍্যাবকে জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইয়াসিন উপস্থিত থাকবেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে পতেঙ্গা কোম্পানির একটি র‍্যাব দল সেখানে অভিযান পরিচালনায় যায়।
বিকেল পৌনে ৪টার দিকে অভিযানে গেলে ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে চারজন র‍্যাব সদস্য ও সোর্স মনাকে আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সহায়তায় গুরুতর আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

জনপ্রিয়

যশোরে পূজামণ্ডপে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির সাহসী পদক্ষেপ, আটক ৭

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুড়িয়ে দেওয়া হবে: র‍্যাব মহাপরিচালক

আপডেট : ০৬:১৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুর বর্তমানে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। খুব শিগগিরই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী এবং অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে।

 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ এর প্রধান কার্যালয়ে হামলায় নিহত র‍্যাব কর্মকর্তা শহীদ মোতালেব হোসেনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, “সুবেদার মোতালেব হোসেন শহীদ হয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি র‍্যাব মনিটরিং করবে।
তিনি আরও বলেন, “শহীদ মোতালেবের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা তাকে ফিরিয়ে দিতে পারব না, তবে তার পরিবারের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করেছি এবং সবসময় তাদের পাশে থাকব।”
উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র‍্যাবের আরও তিন সদস্য এবং ‘মনা’ নামের একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ, র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন বিকেলে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। এ উপলক্ষে সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হয়। রুকন গ্রুপের অনুসারী ও র‍্যাবের সোর্স মনা র‍্যাবকে জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইয়াসিন উপস্থিত থাকবেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে পতেঙ্গা কোম্পানির একটি র‍্যাব দল সেখানে অভিযান পরিচালনায় যায়।
বিকেল পৌনে ৪টার দিকে অভিযানে গেলে ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে চারজন র‍্যাব সদস্য ও সোর্স মনাকে আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সহায়তায় গুরুতর আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।