
চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৬ বছর যাবৎ পলাতক আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৮)’কে ঢাকা মহানগরীর গুলশান থানাধীন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩।
১| এলিট ফোর্স হিসেবে র্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে| র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, ধর্ষণ, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনী, ছিনতাইকারী, অপহরণ ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
২| এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৩ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর থানার ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৮), পিতাঃ সিকেন্দার, সাং-লং শিবার দীঘির পাড়, থানাঃ নড়িয়া, জেলাঃ শরীয়তপুর’কে ঢাকা মহানগরীর গুলশান থানাধীন গুলশান-১, রোড় নং-৩৩, বাড়ী নং-১২ হতে ১০ মে ২০২৬ তারিখ ১৩৫০ ঘটিকায় মামলার রজুর ১৬ (ষোল) বছর পর গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৩।
৩| প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ভিকটিম শিউলি আক্তার (১৪) তার বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদ নৌকা ঘাটে বেরিবাঁধ এলাকায় ঘুরতে যান। পরবর্তীতে বান্ধবী চলে যাওয়ার পর আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টার সময় আসামি ও তার সহযোগীরা ভিকটিমকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে জোরপূর্বক একটি নৌকায় তুলে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে নৌকার মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেয় এবং সেখানে আসামি ও তার সহযোগীরা মিলে ভিকটিমকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ধৃত আসামি ও তার সহযোগীরা ধর্ষণের পর ভিকটিম শিউলিকে একটি বাড়ির কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকে রাখে। ভিকটিমের পরিবার খবর পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা গ্রহণ শেষে ভিকটিম বাদী হয়ে ধৃত সাইফুল ইসলাম ও সহযোগীদের নামে কামরাঙ্গীরচর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা রুজু করেন।
৪। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল – ৪ এর বিচারক মুন্সী মোঃ মশিউর রহমান চারজন আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থ দণ্ড অনাদায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের রায় ঘোষণা করেন।
৫| ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
















