বাবা-ছেলেকে আটক করে শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের ঘটনায় তিন জন গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করেছে র‌্যার-৪

কল্যাণপুরে ছাদের চিলেকোঠায় বাবা-ছেলেকে আটক করে নিয়ে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের ঘটনায় তিন জন গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করেছে র‌্যার-৪।

“বাংলাদেশ আমার অহংকার”- এই স্লোগান নিয়ে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। র‌্যাব-৪ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধী গ্রুপ ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৪ এর আভিযানিক দল ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কল্যাণপুরে ছাদের চিলেকোঠায় বাবা-ছেলেকে আটক করে নিয়ে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের ঘটনায় তিন জন গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো ১। মোঃ বিল্লাল(৩৫), ২। মোঃ জুম্মন(৩০) এবং ৩। শেখ মোঃ ফয়সাল(৩৫)। মামলার এজাহার ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অত্র মামলার বাদী এবং ভিকটিম মোঃ মাহফুজুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। তিনি সবুজবাগ থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত ০২ জুলাই ২০২৬ দিবাগত রাত ১২ঃ৪৫ ঘটিকার দিকে মোটর সাইকেলে তার ছেলেকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের আত্মীয়ের বাসা থেকে সবুজবাগের বাসায় ফিরছিলেন। পথে কল্যাণপুর এলাকায় দারুস সালাম জামে মসজিদের নিচে একটি দোকান থেকে পানি কেনার জন্য থামেন। পানি নিয়ে মোটরসাইকেল চালু করতেই ৫-৬ ব্যক্তি এসে মাহফুজকে ছেলেসহ দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি গলি দিয়ে একটি পুরোনো ভবনের চিলেকোঠায় নিয়ে যায়। সেখানে উক্ত ব্যক্তিরা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে এবং পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং ও ফোন তল্লাশী করে পর্যাপ্ত টাকা না পেয়ে বিভিন্ন নিকটাত্মীয়কে ফোন করে টাকা জোগাড় করতে চাপ দেয়। পরে পরিচিত কয়েকজনসহ ভিকটিমের খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা এনে দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও মোটর সাইকেল রেখে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে পাঠিয়ে দেয়। সিএনজিতে তুলে দেওয়ার আগে তাদের হুমকি দেওয়া হয়, ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে আরো ভয়াবহ পরিণতি হবে। পরবর্তীতে ভিকটিম মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে দুইদিন ভর্তি থেকে চিৎকসা গ্রহণ করে।

উক্ত ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। এবং এ সংক্রান্তে ভিকটিম বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় একটি মামলা রুজু করে। এর পররই র‌্যাব-৪ উক্ত ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য র‌্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ৩ জন আসামীকে সনাক্ত করে এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান সনাক্ত করে দারুস সালাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের কে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারকৃত আসামীরা ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম , শাহাআলী, মিরপুর থানাসহ আশেপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীণ।

জনপ্রিয়

যশোরে পূজামণ্ডপে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির সাহসী পদক্ষেপ, আটক ৭

বাবা-ছেলেকে আটক করে শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের ঘটনায় তিন জন গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করেছে র‌্যার-৪

আপডেট : ০৯:১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

কল্যাণপুরে ছাদের চিলেকোঠায় বাবা-ছেলেকে আটক করে নিয়ে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের ঘটনায় তিন জন গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করেছে র‌্যার-৪।

“বাংলাদেশ আমার অহংকার”- এই স্লোগান নিয়ে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। র‌্যাব-৪ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধী গ্রুপ ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৪ এর আভিযানিক দল ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কল্যাণপুরে ছাদের চিলেকোঠায় বাবা-ছেলেকে আটক করে নিয়ে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের ঘটনায় তিন জন গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো ১। মোঃ বিল্লাল(৩৫), ২। মোঃ জুম্মন(৩০) এবং ৩। শেখ মোঃ ফয়সাল(৩৫)। মামলার এজাহার ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অত্র মামলার বাদী এবং ভিকটিম মোঃ মাহফুজুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। তিনি সবুজবাগ থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত ০২ জুলাই ২০২৬ দিবাগত রাত ১২ঃ৪৫ ঘটিকার দিকে মোটর সাইকেলে তার ছেলেকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের আত্মীয়ের বাসা থেকে সবুজবাগের বাসায় ফিরছিলেন। পথে কল্যাণপুর এলাকায় দারুস সালাম জামে মসজিদের নিচে একটি দোকান থেকে পানি কেনার জন্য থামেন। পানি নিয়ে মোটরসাইকেল চালু করতেই ৫-৬ ব্যক্তি এসে মাহফুজকে ছেলেসহ দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি গলি দিয়ে একটি পুরোনো ভবনের চিলেকোঠায় নিয়ে যায়। সেখানে উক্ত ব্যক্তিরা ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে এবং পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং ও ফোন তল্লাশী করে পর্যাপ্ত টাকা না পেয়ে বিভিন্ন নিকটাত্মীয়কে ফোন করে টাকা জোগাড় করতে চাপ দেয়। পরে পরিচিত কয়েকজনসহ ভিকটিমের খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা এনে দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও মোটর সাইকেল রেখে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে পাঠিয়ে দেয়। সিএনজিতে তুলে দেওয়ার আগে তাদের হুমকি দেওয়া হয়, ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে আরো ভয়াবহ পরিণতি হবে। পরবর্তীতে ভিকটিম মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে দুইদিন ভর্তি থেকে চিৎকসা গ্রহণ করে।

উক্ত ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। এবং এ সংক্রান্তে ভিকটিম বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় একটি মামলা রুজু করে। এর পররই র‌্যাব-৪ উক্ত ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য র‌্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ৩ জন আসামীকে সনাক্ত করে এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান সনাক্ত করে দারুস সালাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের কে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারকৃত আসামীরা ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম , শাহাআলী, মিরপুর থানাসহ আশেপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীণ।