
আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন করেছে রোগীর স্বজনরা।
রাজধানীর চানখাঁরপুলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আহমেদ স্পেশালাইজড নামে এক হাসপাতালে বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিল, আদায়, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, ও ভুল চিকিৎসা, রোগীর মৃত্যু গোপন করা এবং দালালের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে আনার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতালে পরিবারের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় পরিবারে লোকজন অভিযোগ করেন ওই হাসপাতালের (এন আইসিইউ) তে নবজাতক শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। এই প্রতিবাদের মাধ্যমে হাসপাতালটি বন্ধ করা এবং দায়িত্বশীলদের শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মো.শরীফ হোসেন জানান, তার স্ত্রী সাড়ে আট মাসের গর্ভবতী অবস্থায় (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করেন। পরে স্থানীয় এক দালালের প্রলোভনে আমার স্ত্রীকে দ্রুত আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করি। এর আগে ইবনে সিনা হাসপাতালে সমস্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করা হলেও আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নতুন করে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।
তিনি জানান, আমার বাচ্চার ওজন মাত্র ১.৮ কেজি ছিল।জন্মের পর তাকে (এনআই সিইউ)তে রাখা হয়। প্রথমে বলেছিল দুই দিন রাখলেই সুস্থ হবে, পরে নয় দিন রাখা হয়। প্রতিদিন ৫-৬ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ হলেও আশা নিয়ে টাকার ব্যবস্থা করেছি। বিল পরিশোধ শেষ হতেই উল্টো বলা হয়েছে বাচ্চাকে অন্য হাসপাতালে নিতে হবে। ভুল চিকিৎসার কারণে আমাদের সন্তান মারা গেছে।
তিনি আরও করেন, হাসপাতালের (এনআই সিইউ)তে ২০-৩০টি নবজাতককে একটি ছোট ঘরে গাদাগাদি করে রাখা হয়। পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই। অপারেশন করা স্থানে এখনও সংক্রমণ রয়েছে। স্ত্রী জানিয়েছেন, তাকে উলঙ্গ করে সিজার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
আরেকজন ভুক্তভোগী রিয়া মনি জানান, তার বাচ্চার জন্য দুইদিন ভর্তি থাকার সময় তারা ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ করেছেন। তাতেও শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতাল অন্য হাসপাতালে পাঠাতে চাইছে। তিনি বলেন, আমরা এখানে আসতে চাইনি। পাশের ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে দালাল জোর করে হাসপাতালে আনেছে। এখানে এসে দেখলাম এটি যেন কসাইখানা।
মানববন্ধনে উপস্থিত আরও ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেন, হাসপাতাল অতিরিক্ত ফি ধার্য করে, মৃত্যু ঘটনা আড়াল করে ও কোনো নথি রাখে না। হাসপাতালের রিসিপশন ও কম্পিউটারভিত্তিক ডাটাবেজে রোগী ভর্তি বা মৃত্যু সংক্রান্ত কোনো নথি নেই, সংকীর্ণ সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়।
এনআইসিইউতে, যেখানে হাসপাতালের মতো কোনো পরিবেশ নেই। হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট বলে ভুক্তভোগীদে অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। জায়গা ছোট হওয়ায় অনেক কিছু রাখা যায়নি। অনেক কাগজপত্রও নেই।
হাসপাতালের রিসিপশনিস্টের ফোন ব্যবহার করে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ অফিসার মোঃ রিয়াদুর রহমান রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিদিনের আলো’কে বলেন, রোগী যদি চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ করেন, আমরা তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেব। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে আমরা একমত নই এবং তা অস্বীকার করছি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতালের কার্যক্রম তদন্ত করে শাস্তি নেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। বংশাল থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বংশাল থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান (১০ সেপ্টেম্বর) এখানে একটি বাচ্চা জন্মগ্রহণ করেছে, পরদিন এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে নবজাতক পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












