গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদীকে নেওয়া হল এভার কেয়ার হাসপাতালে

রাজধানীর পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা ৮-আসনের গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদী(৩৩)কে ঢামেকে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢামেকে বাগান গেট দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃআসাদুজ্জামান খান জানান, ওসমান হাদীর ঢামেকের নিউরো সার্জারির ওটিতে অস্ত্র পাচার শেষে অবজারভেশনে রাখা হয়। তার মাথা থেকে একটি পিলেট পাওয়া গেছে সেটা হল গুলি পিছনে অংশ তার অবস্থা অসংখ্যজনক বলেও জানান তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ও ঢামেক নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢামেক নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা.জাহিদ রাহান বলেন, গুলিটি মাথার ভেতর দিয়ে ক্রস করে গেছে। এতে ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি হয়েছে এবং ব্রেইন স্টেমেও আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে। জীবনের ন্যূনতম চিহ্ন এখনো আছে, তিনি পুরোপুরি নিস্তেজ হননি। তবে অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আমরা নিশ্চয়তা নিয়ে কিছু বলতে পারছি না।বাম দিকে যেখানে গুলিটি বের হয়েছে, সেই অংশের খুলির হাড় অপসারণ করে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাথার ভেতরের রক্ত ও জমে থাকা ফ্লুইড অপসারণ করা হয়েছে। ক্রমাগত চাপ এবং ব্লিডিংয়ের কারণে অবস্থার ওঠানামা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদীর বাম কান দিয়ে গুলি ঢুকেছে ও ডান দিকে বের হয়েছে। খুলি খোলা রয়েছে ও মগজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে চাপ কমানো হয়েছে। ভেতরের ব্লিডিংও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কিছু সময় হেমোডাইনামিকালি স্টেবল থাকলেও চাপ ওঠানামা করছে। নাক ও গলা দিয়ে ব্লিডিং শুরু হলে(ইএনটি) সার্জনরা তা ম্যানেজ করেছেন। হাদীর নিজস্ব শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা এখনো আছে। কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তবে অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। জীবন রক্ষার জন্য দেশবাসীর দোয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী মোঃ সায়্যেদুর রহমান জানান, হাদীকে ঢামেকে আনার সময় তার জিসি স্কোর ছিল মাত্র ৩, পরে তিনি একবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে গিয়েছিলেন।মস্তিষ্কে চাপ বেড়ে যাওয়ায় ডিকম্প্রেশন ও ক্রেনিওটমি করা হয়েছে। তবে অবস্থার দ্রুত ওঠানামার কারণে তাকে স্টেবল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই অবস্থায় কোনো সুস্পষ্ট চিকিৎসা সিদ্ধান্ত দেওয়া বা আশার কথা বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ঢামেক থেকে সিএমএইচে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী এবার হাদীকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হবে। আইসিইউ সাপোর্টেড এম্বুলেন্স এবং রক্তের ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই হাদীকে আইসিইউ সাপোর্টেড এম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হবে।দেশবাসীর দোয়া প্রয়োজন।সরকার ও আমাদের পক্ষ থেকে লজিস্টিক সাপোর্টসহ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, সন্ধ্যার পর হাদীর নাক ও গলা দিয়ে তীব্র ব্লিডিং শুরু হয়। তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকরা তৎপর হন। বর্তমানে তিনি ওষুধের সহায়তায় হিমোডাইনামিকালি স্টেবল আছেন, তবে অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী নয়।

চিকিৎসকদল আরও জানিয়েছেন, হাদীর বাম দিকের খুলি খুলে রাখা হয়েছে কারণ সেখানে মগজ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মগজ থেকে পানি বের করে চাপ কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নাক ও গলা দিয়ে ব্লিডিং শুরু হলে তা চিকিৎসকরা ম্যানেজ করেছেন। কিছুক্ষণ হেমোডাইনামিকালি স্টেবল থাকলেও পরে আবার অবস্থার ওঠানামা হচ্ছে। জীবনের ন্যূনতম চিহ্ন এখনো আছে, তিনি পুরোপুরি নিস্তেজ হননি।

জনপ্রিয়

যশোরে পূজামণ্ডপে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির সাহসী পদক্ষেপ, আটক ৭

গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদীকে নেওয়া হল এভার কেয়ার হাসপাতালে

আপডেট : ০৪:৪০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা ৮-আসনের গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদী(৩৩)কে ঢামেকে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢামেকে বাগান গেট দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃআসাদুজ্জামান খান জানান, ওসমান হাদীর ঢামেকের নিউরো সার্জারির ওটিতে অস্ত্র পাচার শেষে অবজারভেশনে রাখা হয়। তার মাথা থেকে একটি পিলেট পাওয়া গেছে সেটা হল গুলি পিছনে অংশ তার অবস্থা অসংখ্যজনক বলেও জানান তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য এভার কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ও ঢামেক নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢামেক নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা.জাহিদ রাহান বলেন, গুলিটি মাথার ভেতর দিয়ে ক্রস করে গেছে। এতে ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি হয়েছে এবং ব্রেইন স্টেমেও আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে। জীবনের ন্যূনতম চিহ্ন এখনো আছে, তিনি পুরোপুরি নিস্তেজ হননি। তবে অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আমরা নিশ্চয়তা নিয়ে কিছু বলতে পারছি না।বাম দিকে যেখানে গুলিটি বের হয়েছে, সেই অংশের খুলির হাড় অপসারণ করে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাথার ভেতরের রক্ত ও জমে থাকা ফ্লুইড অপসারণ করা হয়েছে। ক্রমাগত চাপ এবং ব্লিডিংয়ের কারণে অবস্থার ওঠানামা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদীর বাম কান দিয়ে গুলি ঢুকেছে ও ডান দিকে বের হয়েছে। খুলি খোলা রয়েছে ও মগজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে চাপ কমানো হয়েছে। ভেতরের ব্লিডিংও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কিছু সময় হেমোডাইনামিকালি স্টেবল থাকলেও চাপ ওঠানামা করছে। নাক ও গলা দিয়ে ব্লিডিং শুরু হলে(ইএনটি) সার্জনরা তা ম্যানেজ করেছেন। হাদীর নিজস্ব শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা এখনো আছে। কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তবে অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। জীবন রক্ষার জন্য দেশবাসীর দোয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী মোঃ সায়্যেদুর রহমান জানান, হাদীকে ঢামেকে আনার সময় তার জিসি স্কোর ছিল মাত্র ৩, পরে তিনি একবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে গিয়েছিলেন।মস্তিষ্কে চাপ বেড়ে যাওয়ায় ডিকম্প্রেশন ও ক্রেনিওটমি করা হয়েছে। তবে অবস্থার দ্রুত ওঠানামার কারণে তাকে স্টেবল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, “আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই অবস্থায় কোনো সুস্পষ্ট চিকিৎসা সিদ্ধান্ত দেওয়া বা আশার কথা বলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ঢামেক থেকে সিএমএইচে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী এবার হাদীকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হবে। আইসিইউ সাপোর্টেড এম্বুলেন্স এবং রক্তের ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই হাদীকে আইসিইউ সাপোর্টেড এম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হবে।দেশবাসীর দোয়া প্রয়োজন।সরকার ও আমাদের পক্ষ থেকে লজিস্টিক সাপোর্টসহ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, সন্ধ্যার পর হাদীর নাক ও গলা দিয়ে তীব্র ব্লিডিং শুরু হয়। তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকরা তৎপর হন। বর্তমানে তিনি ওষুধের সহায়তায় হিমোডাইনামিকালি স্টেবল আছেন, তবে অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী নয়।

চিকিৎসকদল আরও জানিয়েছেন, হাদীর বাম দিকের খুলি খুলে রাখা হয়েছে কারণ সেখানে মগজ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মগজ থেকে পানি বের করে চাপ কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নাক ও গলা দিয়ে ব্লিডিং শুরু হলে তা চিকিৎসকরা ম্যানেজ করেছেন। কিছুক্ষণ হেমোডাইনামিকালি স্টেবল থাকলেও পরে আবার অবস্থার ওঠানামা হচ্ছে। জীবনের ন্যূনতম চিহ্ন এখনো আছে, তিনি পুরোপুরি নিস্তেজ হননি।