সাংবাদিককে গলা কেটে হত্যার হুমকি, দেশ ছাড়ার নির্দেশ: থানায় জিডি

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সত্য প্রকাশের জেরে স্থানীয় নির্ভীক সাংবাদিক অমিয় কর (আইনি নথিতে অমিয় কর)-এর ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা ও সপরিবারে দেশত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়ার তীব্র নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে।
চিহ্নিত অপরাধী চক্র কেবল ওই সংবাদকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তাকে অবিলম্বে দেশান্তরী হওয়ার হুমকি দিয়েছে। অন্যথায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হবে বলে প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নাগরিক নিরাপত্তার ওপর এক চরম ও নগ্ন আঘাত। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক অমিয় কর (৪১), পিতা- মৃত রমেশ চন্দ্র কর, জীবননাশের চরম শঙ্কায় ভুগছেন এবং এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন, যার অফিশিয়াল ট্র্যাকিং নম্বর- MGXX46।
দায়েরকৃত অভিযোগের বিবরণীতে জানা যায়, গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ নৈশ আনুমানিক ৮:৩০ ঘটিকায় আগৈলঝাড়া থানাধীন গৈলা ইউনিয়নের পশ্চিম সুজনকাঠীস্থ গোজারিয়া রোডের একটি বিপণিবিতানের সম্মুখে এই সুপরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার ১ নম্বর নামধারী বিবাদী মো: মনির মোল্লা (৪৬)-এর প্রত্যক্ষ উস্কানি ও নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাংবাদিক অমিয় করের ওপর অতর্কিত ও আকস্মিক হামলা চালায়। জিডিতে সাক্ষীরা হলেন— মাকসুম খান (৪৪), বিকাশ রায় (৪৯) এবং জাকির পাইক (৪৬)। জানা গেছে, সাংবাদিক অমিয় করের পরিবারের সাথে বিবাদীদের একটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ওই আইনি পদক্ষেপ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে মনির মোল্লা ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্য দিবালোকে অমিয় করকে অবর্ণনীয় ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে নিগৃহীত করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা উচ্চকণ্ঠে হুঙ্কার দিয়ে বলে, “তুই এই দেশ থেকে চলে যা, তোকে সপরিবারে গলা কেটে জবাই করে হত্যা করব।” এই ঘটনার পর থেকে ওই সংবাদকর্মী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন।
একজন সমাজ সচেতন সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা যেখানে ভূলুণ্ঠিত, সেখানে প্রকাশ্যে এমন নৃশংস প্রাণনাশের হুমকি গোটা গণমাধ্যম সমাজ ও স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের জন্য এক অশনিসংকেত। এই ধরনের জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার এক অপচেষ্টা। স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছেন। সাংবাদিক সমাজ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেছে, অবিলম্বে মূলহোতা মনির মোল্লাসহ এই সন্ত্রাসী চক্রের সকল সদস্যকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সাথে সাংবাদিক অমিয় কর এবং তার পরিবারের সার্বিক জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর ও রাজপথের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
এদিকে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিষয়টি চরম গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে ডায়েরিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুততম সময়ে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর তাগিদ দিয়েছেন।
জনপ্রিয়

যশোরে পূজামণ্ডপে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির সাহসী পদক্ষেপ, আটক ৭

সাংবাদিককে গলা কেটে হত্যার হুমকি, দেশ ছাড়ার নির্দেশ: থানায় জিডি

আপডেট : ০৭:১২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সত্য প্রকাশের জেরে স্থানীয় নির্ভীক সাংবাদিক অমিয় কর (আইনি নথিতে অমিয় কর)-এর ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা ও সপরিবারে দেশত্যাগের আলটিমেটাম দেওয়ার তীব্র নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে।
চিহ্নিত অপরাধী চক্র কেবল ওই সংবাদকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তাকে অবিলম্বে দেশান্তরী হওয়ার হুমকি দিয়েছে। অন্যথায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হবে বলে প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নাগরিক নিরাপত্তার ওপর এক চরম ও নগ্ন আঘাত। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক অমিয় কর (৪১), পিতা- মৃত রমেশ চন্দ্র কর, জীবননাশের চরম শঙ্কায় ভুগছেন এবং এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন, যার অফিশিয়াল ট্র্যাকিং নম্বর- MGXX46।
দায়েরকৃত অভিযোগের বিবরণীতে জানা যায়, গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ নৈশ আনুমানিক ৮:৩০ ঘটিকায় আগৈলঝাড়া থানাধীন গৈলা ইউনিয়নের পশ্চিম সুজনকাঠীস্থ গোজারিয়া রোডের একটি বিপণিবিতানের সম্মুখে এই সুপরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার ১ নম্বর নামধারী বিবাদী মো: মনির মোল্লা (৪৬)-এর প্রত্যক্ষ উস্কানি ও নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাংবাদিক অমিয় করের ওপর অতর্কিত ও আকস্মিক হামলা চালায়। জিডিতে সাক্ষীরা হলেন— মাকসুম খান (৪৪), বিকাশ রায় (৪৯) এবং জাকির পাইক (৪৬)। জানা গেছে, সাংবাদিক অমিয় করের পরিবারের সাথে বিবাদীদের একটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ওই আইনি পদক্ষেপ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে মনির মোল্লা ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্য দিবালোকে অমিয় করকে অবর্ণনীয় ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে নিগৃহীত করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা উচ্চকণ্ঠে হুঙ্কার দিয়ে বলে, “তুই এই দেশ থেকে চলে যা, তোকে সপরিবারে গলা কেটে জবাই করে হত্যা করব।” এই ঘটনার পর থেকে ওই সংবাদকর্মী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন।
একজন সমাজ সচেতন সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা যেখানে ভূলুণ্ঠিত, সেখানে প্রকাশ্যে এমন নৃশংস প্রাণনাশের হুমকি গোটা গণমাধ্যম সমাজ ও স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের জন্য এক অশনিসংকেত। এই ধরনের জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার এক অপচেষ্টা। স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছেন। সাংবাদিক সমাজ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেছে, অবিলম্বে মূলহোতা মনির মোল্লাসহ এই সন্ত্রাসী চক্রের সকল সদস্যকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সাথে সাংবাদিক অমিয় কর এবং তার পরিবারের সার্বিক জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর ও রাজপথের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
এদিকে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিষয়টি চরম গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে ডায়েরিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুততম সময়ে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর তাগিদ দিয়েছেন।