
কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অষ্টম শ্রেণীর এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৫) সড়ক থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন—দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মো. সবুজ মিয়া (২৪) এবং তার খালাতো ভাই মো. ইসমাইল (২৯)। তারা দুজনেই প্রবাসী এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গত শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জানায়, সবুজ তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রাজি না হওয়ায় সেদিন সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছ তলা থেকে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে তাকে অটোরিকশায় তুলে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সবুজের স্ত্রী সন্তান প্রসবের কারণে কুমিল্লায় থাকায় বাড়িটি খালি ছিল। সেখানে সবুজ ও ইসমাইল তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং ঘটনা কাউকে জানালে অ্যাসিড মারা ও বাবাকে হত্যার হুমকি দেয়।
কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে এসে ভুক্তভোগী তার দাদীকে বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর ঢাকায় কর্মরত ভুক্তভোগীর বাবা-মা বাড়ি ফিরে পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর ভুক্তভোগীর পরিবারকে ডেকে এনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ভিক্টিমের ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বারেরা দাখিল মহিলা মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আমির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি ভুক্তভোগীকে নিয়মিত পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীর বাবা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।














