জবি শিক্ষার্থী অনিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর বংশাল থানার চানখারপুল কায়েতটুলি একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অনিক চন্দ্র পাল (২১) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত অনিক চন্দ্র পাল (জবির) ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সোয়া বারোটার দিকে মৃত ঘোষণা করে। নিহতের মেস সদস্য ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, দুই দিন আগে নিহত অনিকের সঙ্গে তার প্রেমিকার বিচ্ছেদ হয়ে যায় বিচ্ছেদের পর থেকে অনিকের মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা পাওয়া যায়। এরপর থেকেই অনিক মেসে একা চুপচাপ থাকতে শুরু করেন। হতাশা গ্রস্থ ছিল পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা এবং আর্থিক সমস্যার মধ্যেও ছিল। মঙ্গলবার রাত ৯টা বা সাড়ে ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট তাকে ফোন কলে না পেয়ে মেসে তার রুমে গিয়ে দেখতে পান দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে দেখেন অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে। পরে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক ঘোষণা করে।
তিনি আরো জানান, নিহত অনিকের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলার অরবিন্দ পালের ছেলে।বর্তমানে বংশালের কায়েতটুলি বি কে গাঙ্গুলী লেনের ওই ছাত্র মেসে থাকতেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান জবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল তিনি জানান, স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই ঢামেকে গিয়ে দেখি অনিক আর বেচে নেই।

তিনি আরো জানান, আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।পরে স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি। আমরা জানতে পেরেছি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

যশোরে পূজামণ্ডপে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ প্রতিরোধে আনসার-ভিডিপির সাহসী পদক্ষেপ, আটক ৭

জবি শিক্ষার্থী অনিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ১১:৪৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বংশাল থানার চানখারপুল কায়েতটুলি একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অনিক চন্দ্র পাল (২১) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত অনিক চন্দ্র পাল (জবির) ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সোয়া বারোটার দিকে মৃত ঘোষণা করে। নিহতের মেস সদস্য ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, দুই দিন আগে নিহত অনিকের সঙ্গে তার প্রেমিকার বিচ্ছেদ হয়ে যায় বিচ্ছেদের পর থেকে অনিকের মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা পাওয়া যায়। এরপর থেকেই অনিক মেসে একা চুপচাপ থাকতে শুরু করেন। হতাশা গ্রস্থ ছিল পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা এবং আর্থিক সমস্যার মধ্যেও ছিল। মঙ্গলবার রাত ৯টা বা সাড়ে ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট তাকে ফোন কলে না পেয়ে মেসে তার রুমে গিয়ে দেখতে পান দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে দেখেন অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে। পরে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক ঘোষণা করে।
তিনি আরো জানান, নিহত অনিকের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলার অরবিন্দ পালের ছেলে।বর্তমানে বংশালের কায়েতটুলি বি কে গাঙ্গুলী লেনের ওই ছাত্র মেসে থাকতেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান জবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল তিনি জানান, স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই ঢামেকে গিয়ে দেখি অনিক আর বেচে নেই।

তিনি আরো জানান, আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।পরে স্বজনদের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি। আমরা জানতে পেরেছি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।