প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ৯:৫৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১৬, ২০২৬, ৫:১৫ এ.এম
মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর পূর্তি আজ

১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের আজ ৫০ বছর পূর্তি। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে এই দিনে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ থেকে কানসাটের উদ্দেশ্যে এক অভূতপূর্ব গণযাত্রা শুরু হয়েছিল।
আজ শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী)-এর কার্যালয় থেকে দলটির সভাপতি স্বপন কুমার সাহা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঐতিহাসিক দিনটির স্মৃতিরক্ষা ও মওলানা ভাসানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
১৯৭৬ সালের মে মাসে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী বার্ধক্যজনিত কারণে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তৎকালীন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জিয়াউর রহমান হাসপাতালে তাকে দেখতে গেলে মওলানা ভাসানীর সাথে ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে মওলানা ভাসানী জিয়াউর রহমানকে রাজনীতি করার জন্য উৎসাহিত করেন। জিয়াউর রহমান তখন দেশের জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করলে মওলানা ভাসানী তাকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির আদর্শকে প্রতীক করে দল গঠনের পরামর্শ দেন এবং তৎকালীন ন্যাপ-এর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান যাদু মিয়ার সাথে এ বিষয়ে আলোচনার কথা বলেন।
ফারাক্কা বাঁধের ফলে উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় মওলানা ভাসানী কানসাট অভিমুখে লংমার্চ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। জিয়াউর রহমান তার অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে এই কঠিন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলেও মওলানা ভাসানী দৃঢ়ভাবে বলেন, "গণমানুষের পক্ষে ও দেশ-জাতির পক্ষে আমার জীবনে শেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি ফারাক্কা লংমার্চ করার সিদ্ধান্ত।" পরবর্তীতে এই কর্মসূচি সফল করতে জিয়াউর রহমান সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
১৯৭৬ সালের ১২ মে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ন্যাপের এই ডাকে আওয়ামী লীগ, জাসদসহ তৎকালীন প্রায় সব বাম রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এরপর ১৬ মে কানসাটের উদ্দেশ্যে লংমার্চের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় মওলানা ভাসানী ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে এক ঐতিহাসিক বার্তা দেন। তিনি বলেন, "আমি তোমার পিতার সঙ্গে ব্রিটিশ আন্দোলনে রাজপথে লড়াই করেছি। তাই ফারাক্কা বাঁধ বন্ধ করার জন্য তোমার, ভারতের নৈতিক দায়িত্ব।"
পরবর্তী সময়ে ফারাক্কা সংকট ইস্যুটি জাতিসংঘেও উত্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে আজও মওলানা ভাসানীর সেই আপোষহীন দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লড়াই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে ভাস্বর হয়ে আছে।
ঠিকানা
বাড়ি-১০/কে, ৬ষ্ঠ তলা, নয়াপল্টন হাউসিং, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০
মোবাইল নম্বর: ০১৪০৪৬৫০৪১
ইমেইল: admin@pratidineralo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক
নাম: এস.এ. শাওন (এল.এল.বি)
সহ-সম্পাদক:
নাম: রাব্বি চৌধুরী
Copyright © 2026 প্রতিদিনের আলো. All rights reserved.