বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিভিল এভিয়েশন স্টেট শাখায় কর্মরত সার্ভেয়ার (ড্রাফ ম্যান) মো. কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, তদবির-বাণিজ্য এবং অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাবিব আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সিভিল এভিয়েশনে চাকরির সুবাদে মো. কবির হোসেন ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার মোল্লারটেক-ইরশাল কলোনী রোডের মাথায় এপিবিএন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের পূর্ব পাশে তার একটি বিলাসবহুল দুই ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ফ্ল্যাট তিনি বিক্রি করেছেন যার মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা
এছাড়া উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে তার একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ থাকারও দাবি করা হয়েছে। নিজ গ্রামের বাড়িতে নামে- বেনাম অঢেল সম্পদ গড়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী, এমপি ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় সিভিল এভিয়েশনের ল্যান্ড বিভাগে থাকা সত্ত্বে একের পর এক অবৈধ ভাবে সিভিল এভিয়েশনের সরকারি সম্পত্তি উলটপালট করে অন্যস্থলে দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন সার্ভেয়ার (ড্রাফ ম্যান) কবির হোসেন । বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে সিভিল এভিয়েশনে ল্যান্ড স্টেট শাখায় যেত ধরনের কার্যক্রম রয়েছে তা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন মো. কবির হোসেন। অভিযোগে আরো জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট শাখার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একের পর এক দুর্নীতি -অপকর্ম , তকদির বাণিজ্য মাধ্যমে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন কবির হোসেন । অভিযোগকারী দাবি তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এবং আওয়ামীলীগে দোসর দুর্নীতিবাজ কবির হোসেন এখনো কর্মরত রয়েছেন কি ভাবে ?
মো. কবির হোসেনের স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল জেলার গৌড়নদী উপজেলার পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামের জজে আলী সরদারের ছেলে তিনি। তার টিআইএন নং-১৭১৬০৫৭৯৩০৭১, কর সার্কেল- ৭৮, কর অঞ্চল-৪, ঢাকা। তার বর্তমান ঠিকানাঃ বাসা- ৫৬, রোড- ৪, সেক্টর- ১১, উত্তরা, ঢাকা ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বরিশাল জেলা শহরেও মো. কবির হোসেন কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক বাড়ি নির্মাণ করছেন। এসব সম্পদের বৈধ উৎস ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, সিভিল এভিয়েশনে কর্মরত থাকার সুবাদে কবির হোসেন তদবির-বাণিজ্য ও দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিয়মিত ভাবে বিপুল অংকের অর্থ গ্রহণ করেন। অভিযোগকারী এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।
এদিকে লিখিত অভিযোগে সাংবাদিকদের ভয়- ভীতি দেখানো এবং অনুসন্ধান বন্ধের চেষ্টা করারও অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, কবির হোসেনের সম্পদের বিষয়ে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলার মাধ্যমে ভয় -ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগকারী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ক্ষতির শিকার হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর বর্তাবে। একই সঙ্গে কবির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস, আয়-ব্যয় এবং অভিযোগে উত্থাপিত অন্যান্য বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. কবির হোসেনের মুঠোফোনে কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এই জন্য তার বিরুদ্ধে আনীত যত অভিযোগ করা হয়েছে সেই বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগে উত্থাপিত তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
অভিযোগকারী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। পর্ব- ১, দ্বিতীয় পর্বে বিস্তারিত সংবাদ দেখার জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
ঠিকানা
বাড়ি-১০/কে, ৬ষ্ঠ তলা, নয়াপল্টন হাউসিং, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০
মোবাইল নম্বর: ০১৪০৪৬৫০৪১
ইমেইল: admin@pratidineralo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক
নাম: এস.এ. শাওন (এল.এল.বি)
সহ-সম্পাদক:
নাম: রাব্বি চৌধুরী
Copyright © 2026 প্রতিদিনের আলো. All rights reserved.