রাজধানীর মিরপুরে এক প্রবাসী পরিবারের ছয়তলা বাড়ি দখল ও বাড়ির ভাড়া হাতিয়ে নিতে ভাড়াটিয়াদের রীতিমতো হুমকি এবং পুলিশ দিয়ে ভয় -ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী পরিবারের স্বজন হাজী সুমনের বিরুদ্ধে।

পুলিশ ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে বাড়ির ভাড়াটিয়াদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মূল মালিক এর কাছে ভাড়া দিতে বারণ করেন হাজী সুমন ও পুলিশের এসআই মামুন। ভাড়াটিয়াদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর কারণে ভাড়াটিয়ারা মিরপুর মডেল থানায় হাজী সুমন ও তার মেয়ে মিষ্টি বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, হাজী সুমন রূপনগর আবাসিক এলাকায় অনুমতি বিহীন একটি ওয়াশিং ফ্যাক্টরি দিয়েছেন। সেই ফ্যাক্টরিতে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী কয়েকজন বলেন, হাজী সুমন আগে গার্মেন্টসে কাজ করতেন এবং এর পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে পরে তিনি রুপনগর আবাসিক এলাকায় একটি ওয়াশিং ফ্যাক্টরি কাজ শুরু করেন। তারা আরো জানান, হাজী সুমনের মেয়ে মিষ্টি উজ্জলের সঙ্গে বিবাহ হওয়ার আগে অন্য জায়গায় বিবাহ হয়। অর্থের লোভে ও বিদেশ যাওয়ার জন্য মিষ্টি আগের স্বামীকে তালাক দেয় । পরে হাজী সুমন সুকৌশলে উজ্জলের কাছে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে হাজী সুমন ও তার মেয়ে মিষ্টি মিলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও পুলিশ দিয়ে বাড়ি দখল করার পাঁয়তারা করছে । এবং ভাড়াটিয়াদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে ভাড়া দিতে মানা করেছেন । হাজী সুমন মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ও পুলিশকে লেলিয়ে দিয়েছেন । এলাকাবাসীদের আরো অভিযোগ হাজী সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন রইল । এ বিষয়ে হাজী সুমনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন । তবে, হুমকির সত্যতা মিলেছে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাড়াটিয়াদের কথায়। সরজমিনে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরো বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর জে/১ ব্লক, ১৩ নাম্বার রোডের ৮ নাম্বার বাড়িটি কানাডা প্রবাসী ইউনুস আলী উজ্জ্বল ও তার বড় বোন রুমার আক্তারের। গত দুই বছর আগে উজ্জলের সাথে বিয়ে হয় পাশের মহল্লার হাজী সুমনের মেয়ে মুন্নি আক্তার মিষ্টির দ্বিতীয় বিয়ে। সাত মাস আগে তাকে কানাডায় নিয়ে যান স্বামী। বেশ ভালোই চলছিল তাদেত পারিবারিক জীবন। বাড়ির মূল মালিক এর পক্ষ থেকে জানা যায়,
দুই মাস আগে কানাডার স্থায়ী কার্ড পেয়েই বদলে যান মুন্নি আক্তার মিষ্টি। প্রবাসে বসেই শুরু করেন মিষ্টি তার স্বামীর বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র। কানাডায় দেয়া হয় মামলা, অনলাইনে ঢাকার মিরপুর মডেল থানাতেও, ভিত্তিহীন একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যা ভিডিও কলেতে জানান স্বামী নিজেই। থানায়
ডাইরির বিষয়ে স্বামীর ভিডিও বক্তব্য
স্ত্রীর করা মামলায় স্বামীকে কয়েকদিন আগে ধরে নিয়ে যায় কানাডা পুলিশ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কানাডায় বসে বাংলাদেশে, স্বামী ও তার প্রবাসী বোনের ছয়তলা বাড়ির ভাড়া ও বাড়ি দখল করে নিতে স্ত্রী মিষ্টি ও শ্বশুর হাজী সুমন মিলে বিভিন্ন কুটকৌশল করে চেষ্টা করছেন বলে এমন অভিযোগ উজ্জলের বড় বোনের। উজ্জলের বড় বোনের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসীর উজ্জলের শ্বশুর হাজী সুমনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমার মেয়ে মিষ্টি ওই দেশে নির্যাতিত শিকার হয়েছে , আমার মেয়ে পরামর্শে আমি এই কাজটি করেছি। আপনারা ওই দেশ থেকে আমাকে কিছু করতে পারবে না আমি সব কিছু ম্যানেজ করে ফেলব। আমি অনুসন্ধানী টিমকে রীতিমতো ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি। পরে এক পর্যায়ে ব্যর্থ হয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন রুমা কাছে।
উজ্জলের শ্বশুর হাজী সুমনের বক্তব্য
তবে, অনুসন্ধানে টিমের কাছে ওই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও সরেজমিন অনুসন্ধানে স্পষ্টই বেরিয়ে আসে ভাড়ার টাকা আত্মসাত ও বাড়ি দখলের বলপ্রয়োগের দৃশ্য পাওয়া গেছে।
এমন অনৈতিক কাজে মুন্নির বাবা হাজী সুমন ব্যবহার করেছেন মিরপুর মডেল থানার এসআই আল মামুনকেও, ভাড়ার টাকা হাজী সচেতন সুমনকে দেয়ার নির্দেশও দিয়ে যান সেই পুলিশ সদস্য। এর সত্যতা মিলেছে ভাড়াটিয়াদের কথা এবং অনুসন্ধানে টিমের হাতে আসা সিসি ফুটেজে।
এমন নির্দেশের বিষয়ে এসআই আল মামুনের মুঠো ফোনে জানতে চাইলে, এসব কিছুই তিনি বলেননি বলে সাফ জানিয়ে দেন। আবার পরক্ষণেই ম্যানেজ করার বদ্ধ চেষ্টা করেন। এসআই আল মামুনের অডিও রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। এসব বিষয়ে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সাথে দেখা করে জানতে চাইলে, তিনি সেই পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলে জানানোর আশ্বাস দেন। এরপর বেশ কয়েকদিন তাকে ফোন করা হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
প্রবাসে কষ্টের উপার্জিত টাকা দিয়ে বাড়িটি করা হয় সেই বাড়িটিকে রক্ষায় এখন দিশেহারা প্রবাসি বাড়ির মালিক। এবিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় এমপি , প্রতিমন্ত্রী এবং সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ঠিকানা
বাড়ি-১০/কে, ৬ষ্ঠ তলা, নয়াপল্টন হাউসিং, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০
মোবাইল নম্বর: ০১৪০৪৬৫০৪১
ইমেইল: admin@pratidineralo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক
নাম: এস.এ. শাওন (এল.এল.বি)
সহ-সম্পাদক:
নাম: রাব্বি চৌধুরী
Copyright © 2026 প্রতিদিনের আলো. All rights reserved.