ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় নিজেকে শাণিত করেছেন তিনি। ১৯৯৩ সাল থেকে সক্রিয় রাজনীতির পথে যাত্রা শুরু করে ধাপে ধাপে নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছান। ক্যাপিটাল ল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি এবং সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কর্মীবান্ধব মনোভাব তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
শিক্ষাজীবনেও তিনি সমানভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এম.এ ও এল.এল.বি ডিগ্রিধারী এই মেধাবী নেত্রী বর্তমানে ঢাকার ক্যাপিটাল ল কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা ও রাজনীতির সমন্বয়ে তিনি এক বিরল দৃষ্টান্ত।
তাঁর রাজনৈতিক পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। বরং বারবার নির্যাতন, হামলা ও দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়েও তিনি পিছপা হননি। ২০০১ সালে গৌরনদী কলেজে বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়ে বর্বর হামলার শিকার হন তিনি। এমনকি তাঁর নিষ্পাপ সন্তানরাও সেই নির্যাতনের শিকার হয়। কিন্তু এই প্রতিকূলতাই তাঁকে আরও দৃঢ়, আরও অদম্য করে তুলেছে। ১৯৯৯ সালের আন্দোলনেও তিনি ছিলেন রাজপথের সম্মুখ সারির এক সাহসী সৈনিক।
বর্তমানে তিনি বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একজন সক্রিয় ও প্রভাবশালী সদস্য। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রধান সমন্বয়ক এবং আইন সহায়তা কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবাধিকার আন্দোলনেও তাঁর নিরলস অংশগ্রহণ তাঁকে করেছে আরও সম্মানিত।
কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায়ও তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নব্বইয়ের দশকে ইভটিজিং বিরোধী আন্দোলনে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০২৬)-এ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম. জহির উদ্দিন স্বপনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে আগৈলঝাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করে তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন।
বরিশালের তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস—বাহাদুর সাজেদা আক্তারের মতো ত্যাগী, শিক্ষিত ও আপসহীন নেতৃত্বই পারে বিএনপিকে নতুন শক্তিতে উজ্জীবিত করতে। আসন্ন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতা দলীয় রাজনীতিতে নতুন গতি ও দিকনির্দেশনা এনে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।