
ঢাকার নবাবগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মেয়ের বসতবাড়িতে দলবল নিয়ে হামলা, ভাঙচুর, হাতুড়িপেটা এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে খোদ গ্রাম্য পুলিশ (চৌকিদার) বাবার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আকলিমা বেগম (৩৫) বাদী হয়ে তাঁর বাবা নবাবগঞ্জের কর্মরত গ্রাম্য পুলিশ মোঃ কালু মিয়া (৭০) ও স্থানীয় জসিম (৭২)-সহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আইনের রক্ষক হয়েও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত চৌকিদার গণমাধ্যমে প্রকাশ্য হুংকার দিয়েছেন এবং এই হামলার পেছনে স্থানীয় জসিম নামের এক ব্যক্তির ভাড়াটে বাহিনী ও চাঁদাবাজির এক গভীর ও চাঞ্চল্যকর ছক সামনে এসেছে।
নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ গত ১১ জুলাই দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৪২৭/১১৪/৫০৬ ধারায় মামলাটি (মামলা নং- ১৬) রুজু করেছে। মামলার রেকর্ডকারী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইন্সপেক্টর মোঃ মিজানুর রহমান এবং মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর দেলোয়ার হোসেনকে।
মামলার এজাহার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, নবাবগঞ্জ থানার বড় বলমন্তচর গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা বেগমের বাবা গ্রাম্য পুলিশ মোঃ কালু মিয়ার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় নিজের ৪ ডিশিম জমি বিক্রি করার প্রস্তাব দেন। আকলিমার স্বামী মোঃ মোস্তফা ৯ লাখ টাকায় উক্ত জমি কেনার চুক্তি করেন এবং প্রায় দেড় বছর আগে উপস্থিত লোকজনের সামনে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাকি টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে বললে চৌকিদার কালু মিয়া বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেন এবং গোপনে ওই জমি অন্যত্র বিক্রি করে দেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১০ জুলাই সকাল আনুমানিক ৭টার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রাম্য পুলিশ কালু মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা আকলিমা বেগম ও মোঃ মোস্তফার বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। হামলাকারীরা টিনশেড ঘরের বেড়া এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আনুমানিক ১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ সময় আকলিমা বেগম, তাঁর স্বামী মোঃ মোস্তফা এবং তাঁদের ১৭ বছর বয়সী মেয়ে আরিশা আক্তার বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা তাঁদের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারপিট করে। বিশেষ করে ১নং বিবাদী চৌকিদার কালু মিয়া তাঁর হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে জামাতা মোস্তফার দুই পা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর নীলফোলা জখম করেন। মারপিটের একপর্যায়ে হামলাকারীরা ঘর থেকে আকলিমার ছেলের পাঠানো ৪ ভরি স্বর্ণালংকার, স্বামীর পকেটে থাকা নগদ ৪৫,০০০ টাকা এবং একটি রেডমি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহত মোস্তফাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার নেপথ্যের মূল রহস্য ও জসিমের চালবাজি ফাঁস করে ভুক্তভোগী আকলিমা বেগম জানান, এই পুরো হামলার ছক সাজিয়েছে ২নং বিবাদী জসিম। তিনি জানান, "আমার বাবা চৌকিদার কালু মিয়া এই জসিমকে নগদ ২ লাখ টাকা দিয়েছেন। মূলত সেই ২ লাখ টাকা দিয়ে জসিমকে এবং তাঁর লোকজনকে ভাড়া করা হয়, যাতে তারা আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালায়।
আকলিমা বেগম আরও প্রকাশ করেন যে, এই জসিম দুই দিক থেকেই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা করছিল। হামলার আগে জসিম স্বয়ং আকলিমার স্বামীর কাছে গিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। জসিম তখন বলেছিল তোমরা আমাদের ২ লাখ টাকা দাও, তাহলে তোমরা যাতে এখানে শান্তিতে বসত করতে পারো, সেই ব্যবস্থা আমি করে দিচ্ছি। মোস্তফা ও আকলিমা সেই চাঁদার টাকা না দেওয়াতেই জসিম ভাড়াটে দলবল নিয়ে এই নৃশংস তাণ্ডব চালায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনের সেবক হয়েও অভিযুক্ত গ্রাম্য পুলিশ মোঃ কালু মিয়া সংবাদমাধ্যম 'প্রতিদিনের আলো'-র কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দাম্ভিকতার সাথে বলেন, "আমার জায়গা আমি বিক্রি করব, তাতে কার কী? তাই আমি মোস্তফার ঘরবাড়ি ভেঙে উচ্ছেদ করে দিয়েছি এবং এখানে আইনের তোয়াক্কা করি না আমি।
ঠিকানা
বাড়ি-১০/কে, ৬ষ্ঠ তলা, নয়াপল্টন হাউসিং, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০
মোবাইল নম্বর: ০১৪০৪৬৫০৪১
ইমেইল: admin@pratidineralo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক
নাম: এস.এ. শাওন (এল.এল.বি)
সহ-সম্পাদক:
নাম: রাব্বি চৌধুরী
Copyright © 2026 প্রতিদিনের আলো. All rights reserved.