ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিসাব রক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. জালাল আহমেদ,ঘুষ, দুর্নীতি,ভুয়া ভাউচার ও ঠিকাদারদের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করে অঢেল সম্পদ গড়েছেন তিনি। যাকে বলে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক, উপ-পরিচালক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নেতাদের সহযোগিতায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একের পর এক দুর্নীতি - অপকর্মের চালিয়ে যাচ্ছেন হিসাব রক্ষক জালাল আহমেদ। এসব বিষয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন মো. আব্দুল কুদ্দুস নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগে উল্লেখ করেছেন , মো. জালাল আহমেদ, হিসাব রক্ষক (ভারপ্রাপ্ত), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত আছেন। তিনি হাসপাতালের ভুয়া ভাউচার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন কমিশন, বিভিন্ন ধরনের বিলের কমিশন এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে সুকৌশলে কাজের বিনিময় কমিশন নিচ্ছেন তিনি । ওইসব কাজের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন জালাল আহমেদ ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা। অভিযোগে আরো জানা গেছে, হাসপাতালে বিভিন্ন টেন্ডারের কাজগুলো প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন। এর আগে হিসাব রক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন দুর্নীতির অভিযোগে তাকে হাসপাতাল থেকে বদলি করা হয় । বদলি হলেও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। হাসপাতালের সিন্ডিকেটের মুল হোতা হচ্ছেন, উপ-পরিচালক ডাক্তার আশরাফুল আলম, অন্যান্য সদস্যরা হলেন, হিসাব রক্ষক মো. জালাল আহমেদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, ক্যাশিয়া আলমগীর হোসেন সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ও কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের নেতারা জড়িত রয়েছেন বলে একাধিক অভিযোগে জানা গেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঠিকাদারদের সঙ্গে আতায়াত করে কাজ না করেও কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলনের সহযোগীতা করে অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিট বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য করে অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকার লেন দেন করেছেন বলে বিষেশ সূত্রে জানা যায়। এছাড়াও তিনি ঢাকা মেডিকেলের সরকারি ঔষধ বিক্রির বিষয়ে জড়িত রয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। তার অবৈধ সম্পদের অর্জিত টাকা দিয়ে তার স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার মালিক বানিয়েছেন। তার বাবার নাম-আবদুল লতিফ, তার স্ত্রীর নাম-শাহিন সুলতানা, তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৬৪০৯৯৪৮৭০৭, ঠিকানা. গ্রাম. কে ডি হাট, উপজেলা-দাগনভুঞা, জেলা-ফেনী। তার টিআইএন নং-৫৭১২৬৩৩৯৭২৬৫, কর সার্কেল-৭০, কর অঞ্চল-০৪, ঢাকা। তার স্ত্রীর শাহিন সুলতানা, তার বাবার নাম-মন্ত্র মিয়া, স্বামীর নাম- মো. জালাল আহমেদ, পেশা-গৃহিনী, তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং-১৯০৯৯৪৩৫৪৮,তার টিআইএন নং-৮৮৫৭১৭৫০৬০১৫, কর সার্কেল-০৪, কর অঞ্চল-০১, ঢাকা। তার পূর্বের টিআইএন নং-১৪৮১০৯৬০৫১, গত ০৮/১০/২০১৩ইং সালে তার টিআইএনটি আপডেট করেন। তার বর্তমান ঠিকানা. রাজধানী আম্বিয়ার আলো, ফ্ল্যাট নং-বি-২, বাসা-৩৫/৩, শান্তিনগর, পল্টন, ঢাকা। জালাল আহমেদ ও তার পরিবারের অবৈধ সম্পদের বিবরণী নিম্নে তুলে ধরা হলো, রাজধানী আম্বিয়ার আলো, ফ্ল্যাট নং-বি-২, বাসা-৩৫/৩, শান্তিনগর, পল্টন, ঢাকা। উক্ত ফ্ল্যাটটিতে জালাল আহমেদ ও তার পরিবার বসবাস করেন।ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রী শাহীন সুলতানার নামে রেজিস্ট্রিকৃত। ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। ফ্ল্যাটটির মালিক তার স্ত্রী শাহীন সুলতানা, তিনি মূলত একজন গৃহিনী হওয়া সত্বেও বর্তমানে দুই কোটি টাকার ফ্ল্যাটের মালিক।
এছাড়াও ঢাকার বসুন্ধারা আবাসিক এলাকায় তার স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। যাত্রাবাড়ী সনির আখরায় তার স্ত্রী শাহীন সুলতানার নামে একটি বাড়ী রয়েছে। ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প কেরানীগঞ্জে তার স্ত্রীর নামে প্লট রয়েছে। ফেনী জেলা সদরে তার স্ত্রীর নামে দুটি বাড়ী রয়েছে। ফেনী জেলার দাগনভুঞা থানায় তার স্ত্রীর নামে জমি এবং একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে। ঢাকা শহরে অন্যান্য এলাকাও নিজের নামে ও তার স্ত্রীর নামে আরও ফ্ল্যাট রয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও তার স্ত্রী ও পরিবারের নামে বেনামে গাড়ী রয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকা সঞ্চিত রয়েছে। জালাল আহমেদ নিজেকে মন্ত্রীর লোক বলে ক্ষমতা প্রয়োগ করে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করে কোটি কোটি টাকা এখনও হাতিয়ে নিচ্ছেন । তার এলাকার বর্তমানে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে একের পর এক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতি অবকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। জালাল আহমেদ ও তার পরিবারের বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করলে আরও শত শত অভিযোগ পাওয়া যাবে।
অভিযোগের বিষয়ে জালাল আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেন তিনি বলেন এই বিষয়ে আমি কোন বক্তব্য দিব না । আমার অথরিতির কাছে যা জানার জানতে পারেন । সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যেন, জালাল আহমেদ অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য বিশেষ ভাবে আহ্বান করা হইল। পর্ব- এক ।
ঠিকানা
বাড়ি-১০/কে, ৬ষ্ঠ তলা, নয়াপল্টন হাউসিং, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০
মোবাইল নম্বর: ০১৪০৪৬৫০৪১
ইমেইল: admin@pratidineralo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক
নাম: এস.এ. শাওন (এল.এল.বি)
সহ-সম্পাদক:
নাম: রাব্বি চৌধুরী
Copyright © 2026 প্রতিদিনের আলো. All rights reserved.