জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞের মতে সরকারি কর্মচারীদের প্রমোশন দিতে হলে ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটির মিটিং হতে হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নয় মাস আগে ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটির মাধ্যমে কিছু যোগ্যতার প্রমোশন হয়েছে। যারা প্রমোশন পাইনি তারা অতিরিক্ত দায়িত্বের জন্য তদবির করে অর্ডার করতেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল পদ, অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং চলতি দায়িত্ব পালনের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব বণ্টন, পদোন্নতির নিয়ম এবং দায়িত্ব পালনের বিপরীতে প্রাপ্য সুবিধা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। অফিস সহকারী আলমগীর হোসেন দীর্ঘ ৮ বছর যাবত হাসপাতালের অফিসে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার এই দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালে সাধারণ কর্মচারীরা তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী বলেন, আমরা যে কোন বিলের ভাউচার নিয়ে গেলে ভাউচারে টাকা অনুযায়ী তিনি পার্সেন্টেজ চান। তাকে পার্সেন্টেজ না দিলে ভাউচার জমা রেখে দিনের পর দিন মাসের পর মাস ঘুরাইতে থাকেন। আবার তার চাহিদা অনুযায়ী পার্সেন্টেজ দিলে একদিনেই কাজ হয়ে যায়। এভাবেই হাসপাতালে বিভিন্ন কর্মকর্তা- কর্মচারীদের, ঠিকাদার ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লোকজনদের মোটা অংকের ভাউচার গেলে তার কাছে তখন তিনি পার্সেন্টেজ নিয়ে কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। তার চাহিদা মতে পার্সেন্টেজ দিলে দ্রুত কাজ করে দেন। এছাড়াও হাসপাতালে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন ধরনের বিল তার কাছে গেলে একই সিস্টেম করে কাজ করেন তিনি।
এভাবেই গত ৮ বছর যাবত অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন আলমগীর হোসেন। কর্মকর্তা -কর্মচারীদের অভিযোগে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন সিন্ডিকেট করে এসব কাজ করে যাচ্ছেন। এই সিন্ডিকেটের মুলহোতা হাসপাতালে চলতি দায়িত্বের উপ-পরিচালক ডাক্তার আশরাফুল আলম তার নেতৃত্বে এইসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা একের পর এক দুর্নীতি ও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগে জানা গেছে, পরিচালক ও উপ -পরিচালকের অফিস পিয়ন মোহাম্মদ জনি ও মো. মাজাহারুল ইসলাম মাজাহার এদের মাধ্যমে অবৈধভাবে অনেক তদবিরের কাজ জোগাড় করে দেন তাদেরকে । সাধারণ কর্মচারীদের অভিযোগ, জনি ও মাজাহার সার্বক্ষণিক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হাসপাতালে ডিউটি করে। পরিচালক ও উপ - পরিচালক সঙ্গে কেউ যদি দেখা করতে চায় তখন তারা বিভিন্ন ধরনের ব্যস্ততা দেখিয়ে তাদেরকে ঘুরিয়ে দে। আবার কেউ তদবির কাজে গেলে তখন তারা বলে টাকার বিনিময়ে তদবির করা হয় টাকা দিবেন আপনার কাজ কমপ্লিট করা হবে । হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এত অভিযোগ পাওয়ার পরেও নীরব ভূমিকা পালন করেন। এর কারণ কি সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীরা এর রহস্য জানতে চাই।
তথ্যানুযায়ী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তি বর্তমানে হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট বা প্রধান সহকারীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার মূল পদ আপার ডিভিশন ক্লার্ক (উচ্চমান সহকারী)। তিনি মূল পদের অর্থাৎ উচ্চমান সহকারীর বেতনই পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ভাউচার দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কাজের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কথিত ভাউচার বা কাজসংক্রান্ত কাগজপত্রের কথা বলে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এবং অপেক্ষাকৃত বড় ধরনের কাজের ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়ায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হয়ে থাকে। তবে এসব অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কোনো নির্ধারিত ফি, অনুমোদিত রসিদ বা বৈধ আর্থিক বিধানের আওতায় লেনদেন হচ্ছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভাউচারের নামে নেওয়া এসব অর্থের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও হিসাব-নিকাশ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অর্থ লেনদেনের প্রকৃতি জানতে সংশ্লিষ্ট ভাউচার, রসিদ, হিসাবের নথি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাকরি বিধি অনুযায়ী কোনো কর্মচারীকে নিয়মিতভাবে প্রধান সহকারীর পদে পদোন্নতি দিতে হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং পদায়ন/পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। ফলে জাহাঙ্গীরের ক্ষেত্রে তিনি কোন বিধি ও আদেশের ভিত্তিতে প্রধান সহকারীর দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, আলমগীর নামের এক কর্মচারীর মূল পদ অফিস সহকারী হলেও তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ক্যাশিয়ারের কাজ করছেন বলে জানা গেছে। ক্যাশিয়ারের দায়িত্বটি উচ্চমান সহকারীর সমমানের দায়িত্ব হলেও আলমগীর অফিস সহকারীর বেতনই পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, প্রায় নয় মাস আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যাশিয়ার পদে নিয়োগ পাওয়া দুই ব্যক্তি এখনো আলমগীরের কক্ষে বসে কাজ শিখছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, হাসপাতালের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালনের জন্য বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিই মূল দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদধারী। তবে কাজ শেখার স্বার্থে তারা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে।চলতি দায়িত্ব নাকি অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রশ্ন ব্যবস্থাপনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চলতি দায়িত্বে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, রেজাউল নামের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদে কর্মরত এবং তিনি পিএসসি কর্তৃক কনফার্মড দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্বে দুইজনের অবস্থান থাকলেও তাদের নিয়োগের ধরন ও পদমর্যাদায় পার্থক্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি দায়িত্ব (in-charge/current charge) এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব (additional charge) এক বিষয় নয়। চলতি দায়িত্বের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী দায়িত্বভার ভাতা বা সংশ্লিষ্ট সুবিধা প্রাপ্য হতে পারে। অন্যদিকে শুধু অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করা হলে কর্মচারী সাধারণত তার মূল পদের বেতন-ভাতাই পেয়ে থাকেন; অতিরিক্ত দায়িত্বের জন্য আলাদা দায়িত্বভার ভাতা প্রাপ্য কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি ও দায়িত্ব অর্পণের আদেশের ওপর নির্ভর করে। প্রশাসনের কাছে জবাবদিহির দাবি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে কে কোন মূল পদে কর্মরত, কে কোন আদেশে অতিরিক্ত বা চলতি দায়িত্ব পালন করছেন এবং সংশ্লিষ্টরা কোন বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, এসব তথ্য স্পষ্ট থাকা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের দাবি, জাহাঙ্গীর আলম, আলমগীর হোসেন ও সাইফুল ইসলামের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মূল পদ, দায়িত্ব অর্পণের আদেশ, পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্বের অনুমোদন এবং প্রাপ্য বেতন-ভাতার বিষয়গুলো প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ অনুযায়ীহিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে পদায়িত আছেন শাহ আলম।
তার মূল পদ হিসাব রক্ষক এই পদের বিপরীতে তিনি বেতন পাচ্ছেন। এর মানে হচ্ছে তাকে নিজ বেতনে ঢাকা মেডিকেলে পদায়ন করা হয়েছে।
যদি তার অর্ডারটি চলতি দায়িত্বে হত তাহলে একটা প্রমোশন হিসেবে ধরে নেয়া যেত।
শুধুমাত্র কমিশনের লোভেই নিজ বেতনে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসাবে ডিজি হেলথকে চিকিৎসক নেতাদের ইনফ্লুয়েন্স করে এখানে পদাইত হয়েছেন।
ইতিপূর্বে তিনি মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ প্রকল্পের হিসাব রক্ষক পদে থেকে প্রকল্পের দুই হাজার কোটি টাকার কাজ টেন্ডার করে কমিশন বাণিজ্য করে এসেছেন।
তখন তিনি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বলে দাবি করতেন।
পরবর্তীতে সুর পাল্টে জিয়ার সৈনিক হিসেবে অধিক টাকা খাইয়ে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিজ বেতনে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অর্ডার করিয়াছেন।
কিন্তু সেই কর্তৃপক্ষ তার যোগদান গ্রহণ করেননি।
তাই আবার টাকা খাইয়ে ঢাকা মেডিকেলে কমিশনের লোভে পদায়িত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে কর্মকর্তা -কর্মচারীদের দাবি ।
ঠিকানা
বাড়ি-১০/কে, ৬ষ্ঠ তলা, নয়াপল্টন হাউসিং, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০
মোবাইল নম্বর: ০১৪০৪৬৫০৪১
ইমেইল: admin@pratidineralo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক
নাম: এস.এ. শাওন (এল.এল.বি)
সহ-সম্পাদক:
নাম: রাব্বি চৌধুরী
Copyright © 2026 প্রতিদিনের আলো. All rights reserved.