
সংসদ সচিবালয়ের বরখাস্তকৃত কর্মকর্তার আলাদিনের চেরাগ ও পারিবারিক নিষ্ঠুরতার লোমহর্ষক চিত্র ফাঁস করল ‘সাবেক স্ত্রী ও সন্তানেরা।
ঘুষ, জালিয়াতি, আর ব্যাকডোর সিন্ডিকেটের চাদরে চড়ে সাধারণ এক কম্পিউটার অপারেটর পদ থেকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব বনে যাওয়া মো. দিদারুল আলম চৌধুরীর একের পর এক ন্যাক্কারজনক কীর্তি এবার প্রকাশ্য দিবালোকে চলে এসেছে। সাবেক স্ত্রীর মামলায় জেলের ভাত খেয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর এবার নিজের রক্তের সন্তানদের সাথে চরম প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চার বিয়ে এবং লাগামহীন নারী কেলেঙ্কারির নেশায় মত্ত হয়ে তিনি নিজের প্রথম পক্ষের সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে পথে বসিয়েছেন।
দিদারুলের দুর্নীতির রাজপ্রাসাদ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত বিতর্কিত উপসচিব মো. দিদারুল আলম চৌধুরীর আদি বাড়ি নোয়াখালীর সাদপুর গ্রামে হলেও তাঁর দুর্নীতির থাবা দেশজুড়ে বিস্তৃত। অনুসন্ধানে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়ার মতো তথ্য মিলেছে যে, তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন একজন সাধারণ কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল জালিয়াতি, টেবিল-ঘুষ আর প্রভাবশালী চক্রের সাথে ব্যাকডোর সিন্ডিকেট তৈরি করে অবৈধ উপায়ে রাতারাতি বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে বাগিয়ে নেন সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব পদের মতো বড় চেয়ার।
বিগত ৩৬ বছরের চাকরি জীবনে এই চেয়ারের চরম অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির চাদরে ঢেকে তিনি কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকার অচল ও অবৈধ সম্পদ। দুর্নীতি ও ঘুষের টাকায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মিরপুরসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় একাধিক প্লট, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও দামি গাড়ির পাহাড় গড়েছেন তিনি।
২. ৪ বিয়ের লালসা আর নিজের সন্তানদেরই পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে।
দিদারুলের এই অবৈধ সম্পদের পাহাড় টিকিয়ে রাখতে এবং নিজের কামুক লালসা মেটাতে একে একে চারজন নারীকে বিয়ে করে চরম পারিবারিক কলহকে উসকে দিয়েছেন দিদারুল। প্রথম স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদের পর, চরম প্রতিহিংসাবশত তিনি তাঁর নিজের প্রথম পক্ষের সন্তানদের সমস্ত সম্পত্তি ও পৈতৃক অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করেছেন। সন্তানদের ন্যায্য ভরণপোষণ ধূলিসাৎ করে পুরো সম্পদ নিজের কুক্ষিগত করে রেখেছেন তিনি।
এর আগে তাঁর সাবেক স্ত্রী মারেফাতুন নেছার দায়ের করা নারী নির্যাতন ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় (নং- ৯২/২০২৩) জামিন নামঞ্জুর হলে হাতকড়া পরে জেলের ভাত খেতে হয়েছিল দিদারুলকে। এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের পর সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও তাঁর জালিয়াতির রেকর্ড ও সন্তানদের বঞ্চিত করার নিষ্ঠুরতা থামেনি।
দিদারুল আলমের দুদকের জালে আমলনামা শেষ রক্ষা হবে কি? এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) একাধিকবার জমা পড়েছে নথিবদ্ধ অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দিদারুল আলমের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সাবেক স্ত্রী ও তার সন্তানের পৈতৃক অধিকার এবং পৈতৃক সম্পত্তির থেকে বঞ্চিত না হয় সচেতন মহলের দাবি, রাষ্ট্র ও পরিবারের সাথে চরম বেঈমানি করা এই অপরাধীর সমস্ত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।
ঠিকানা
বাড়ি-১০/কে, ৬ষ্ঠ তলা, নয়াপল্টন হাউসিং, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০
মোবাইল নম্বর: ০১৪০৪৬৫০৪১
ইমেইল: admin@pratidineralo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক
নাম: এস.এ. শাওন (এল.এল.বি)
সহ-সম্পাদক:
নাম: রাব্বি চৌধুরী
Copyright © 2026 প্রতিদিনের আলো. All rights reserved.