স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন Important Rural Infrastructure Development Project on Priority Basis-3 (IRIDP-03)-এর প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন খান-এর বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, কর ফাঁকি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দাখিলের পরও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোন তদন্ত না হওয়া এবং পরবর্তীতে অভিযোগপত্রের নথি খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে রহস্যের জট পাকিয়ে।
মোহাম্মদ মিরাজসহ আরো অনেকেই রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন । অভিযোগকারীরা দাবি করেন, প্রথমে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং পরে পুনরায় লিখিতভাবে একই বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করা হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন, বিভাগীয় ব্যবস্থা বা আইনগত পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকা কারণে রুহুল আমিন খান এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন । পরবর্তীতে অভিযোগকারীরা তাদের অভিযোগের অগ্রগতি জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে অভিযোগের নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়। অভিযোগকারীরা বলেন, গুরুতর অভিযোগের নথি হারিয়ে যাওয়া বা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোহাম্মদ রুহুল আমিন খান সরকারের মন্ত্রী -এমপি এবং বিভিন্ন ধরনের নেতাকর্মীদেরকে ধরে তার কাজ হাসিল করতেন। তাদেরকে ম্যানেজ করে একের পর এক দুর্নীতি ও অপকর্মের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেন তিনি। অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জন করে ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, ফ্ল্যাট ও গাড়ি ক্রয় করেছেন।
এমনকি তার নিজ গ্রাম এলাকায় নামে বেনামে অবৈধভাবে অঢেল সম্পদ গড়েছেন। তার সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য ৪৫/৫০ কোটি টাকা হবে বলে অভিযোগকারীদের মাধ্যমে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের আরও দাবি রুহুল আমিন খান এলজিইডি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে সরকারি থেকে কত টাকা বেতন পান তিনিও বেতনের টাকা দিয়ে এত সম্পদ করতে পারবেন ? তাই তিনি সম্পদের নেশায় অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নেন এবং সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে নিজে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন । তারপরও বর্তমান সরকারের আমলে সরকারের কিছু মন্ত্রী এমপিদের হাতকরে আগের কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থেকে রুহুল আমিন খান তার দুর্নীতি অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগকারীরা বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের সহযোগিতায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম- দুর্নীতি করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা সম্পদ গড়েছেন। দুঃখের বিষয় বর্তমান সরকারের আমলেও একই কায়দায় আওয়ামীলীগের দোসর এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন খান তার আগের কার্যক্রম এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন । তার বিষয় নিয়ে কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক ময় ভূমিকা পালন করছেন এর কারণ কি অভিযোগকারীরা জানতে চান । এই আওমীলীগের দোসর রুহুল আমিনের খুঠির জোর কোথায় ?
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন খান সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও স্ত্রী পারভীন আক্তার শিউলী-এর নামে বিপুল পরিমাণের সম্পদ গড়েছেন। এমনকি নামে বেনামে অবৈধভাবে উপার্জনের অর্থ দিয়ে ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তার স্ত্রীর নামে ঢাকা মেট্রো-গ-৩২-০৬১৯ নম্বরের একটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে, যার চেসিস নম্বর NZT260-3184956 এবং ইঞ্জিন নম্বর INZF 108280। গাড়িটির মূল্য ৩১ লাখ ৬১ হাজার ৯৩৮ টাকা হলেও প্রকৃত মূল্য গোপন করে কর ফাঁকির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে রয়েছে।
এছাড়া রাজধানীর লালমাটিয়ার বুলবুলিকা ভবনের পঞ্চম তলায় প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যে ক্রয়ের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুলশান, বনানী, উত্তরা, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি, প্লট ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের পরিমাণ একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সম্পদের উৎস অনুসন্ধান মাধ্যমে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার । এলজিইডির বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন একাধিক মামলা দায়ের করেছে। ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল প্রকাশিত বাসসের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, পিরোজপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে আটটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই অভিযোগে প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিন খান প্রভাব খাটিয়ে এবং মোটা অংকের অর্থ দিয়ে নিজের নাম অভিযোগ থেকে বাদ দিয়েছেন। এই বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি নথি বা তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পূর্বের অভিযোগের কোনো কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে পুনরায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বরাবর আরেকটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। ওই অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্ত ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদের তথ্য যাচাই, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা, প্রকল্পের আর্থিক কার্যক্রমের ফরেনসিক অডিট এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনে বিষয়টি পাঠানোর দাবি জানান অভিযোগকারীরা।
পাশাপাশি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে রিট আবেদন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দাখিল হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের নথি গায়েব হওয়ার ঘটনায় দণ্ডবিধি, সরকারি চাকরি আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, অভিযোগ প্রতিকার নির্দেশিকা এবং সচিবালয় নির্দেশমালার বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘিত হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন উচ্চ আদালতের রায়েরও উল্লেখ করে সম্পদের উৎস যাচাই এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্তের ব্যবস্থা করা। অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা—তা কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারণ করা সম্ভব।
এ বিষয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মুঠোফোনের যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করার কারণে তাদের মন্তব্য নেওয়া যায়নি । এদিকে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন খানের সঙ্গে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিকের নাম শুনলেই ফোন রেখে দিতেন এর জন্য তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ।
অভিযোগপত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ধারা ২৭-এর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিজের বা অন্যের নামে এমন সম্পদের মালিকানা অর্জন করলে যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সে ক্ষেত্রে সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর বর্তায়। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ধারা ৪০৬ ও ৪০৯-এর আলোকে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার বা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযুক্তের স্ত্রীর নামে থাকা সম্পদ ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য যাচাই করলে প্রকৃত আর্থিক চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি উচ্চ আদালতের কয়েকটি রায়ের উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, যেখানে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের উৎস ব্যাখ্যার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব রায়ের ব্যাখ্যা ও প্রযোজ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার এখতিয়ারভুক্ত।
কর ফাঁকির অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিলাসবহুল গাড়িটির ঘোষিত মূল্য ও প্রকৃত মূল্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলে তা আয়কর ও ভ্যাট আইন অনুযায়ী তদন্তের বিষয় হতে পারে। একই সঙ্গে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর আলোকে সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব ও সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।
এলজিইডির দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট এবং কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও তদন্তের দাবি উঠেছে। এসব প্রকল্পের আর্থিক কার্যক্রমের ফরেনসিক অডিট হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগপত্রের নথি খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় সরকারি দপ্তরের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ প্রতিকার নির্দেশিকা এবং সচিবালয় নির্দেশমালার আলোকে অভিযোগের সঠিক রেকর্ড সংরক্ষণ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোনো অভিযোগের নথি হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের রেকর্ড ব্যবস্থাপনা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে দায় নির্ধারণ এবং মিথ্যা হলে বিভ্রান্তি দূর—উভয় ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের করের টাকা হওয়ায় এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক লেনদেন যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো দেশের প্রচলিত বিভিন্ন আইন ও উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে তদন্তযোগ্য। তার অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, কর ফাঁকি এবং অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগের বিষয়ে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর তদন্ত না হওয়া জনস্বার্থের পরিপন্থী।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ধারা ২৭ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদের মালিক হলে এবং তার বৈধ উৎসের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগ তদন্তের এখতিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রয়েছে বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ধারা ৪ অনুযায়ী অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বৈধ করার প্রচেষ্টা মানি লন্ডারিং অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে ।
গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য গোপন করে কর ফাঁকির অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযোগপত্রে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন, ১৯৯১–এর সংশ্লিষ্ট ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, যদি প্রকৃত মূল্য গোপন করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তদন্তেরও দাবি রাখে।
অভিযোগের নথি খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় অভিযোগকারীরা দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ২০৪ ধারার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করেছেন, কোনো দালিলিক প্রমাণ নষ্ট বা গোপন করা হয়ে থাকলে তা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হতে পারে। পাশাপাশি সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮, সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪ এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা নির্দেশিকা, ২০১৫ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি ও অভিযোগকারীকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা গুরুতর অভিযোগ যুক্তিসঙ্গত।
নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা, তার ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস যাচাই, ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা, প্রকল্পের আর্থিক কার্যক্রমের ফরেনসিক অডিট এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দুদকের মাধ্যমে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
ঠিকানা
বাড়ি-১০/কে, ৬ষ্ঠ তলা, নয়াপল্টন হাউসিং, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০
মোবাইল নম্বর: ০১৪০৪৬৫০৪১
ইমেইল: admin@pratidineralo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক
নাম: এস.এ. শাওন (এল.এল.বি)
সহ-সম্পাদক:
নাম: রাব্বি চৌধুরী
Copyright © 2026 প্রতিদিনের আলো. All rights reserved.