প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১১:৪০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২৯, ২০২৬, ১০:৩৫ এ.এম
আগৈলঝাড়ায় সাংবাদিক-আইনজীবীকে কোপানো আসামিরা নাকের ডগায়: ঘুমাচ্ছে প্রশাসন

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক অমিয় কর এবং বরিশাল জজ কোর্টের শিক্ষানবিস আইনজীবী প্রভাত করের ওপর বর্বরোচিত ও নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে মাথার খুলি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার এই ঘটনায় স্থানীয় থানা পুলিশের ভূমিকা এখন চরম সমালোচনার মুখে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন থানায় মামলা না নিয়ে দিনের পর দিন ন্যাক্কারজনক তালবাহানা করেছে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশে বাধ্য হয়ে মামলা রেকর্ড করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি প্রক্রিয়া বা আসামিদের গ্রেপ্তারের ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না প্রশাসন।
ভুক্তভোগী ও দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে আগৈলঝাড়া গোডাউন রোডের চৌরাস্তার মোরে তরূ মোল্লা ও জামাল মুন্সীর দোকানের সামনে সাংবাদিক অমিয় কর ও শিক্ষানবিস আইনজীবী প্রভাত করের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগের তীর আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কার্তিক চন্দ্র বেপারী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো: হামিদুল ইসলাম মহিদুল মোল্লা এবং উপজেলা যুবদল নেতা মো: মনির মোল্লার (আবুল হোসেন মোল্লার ছোট ভাই), ইসমাইল হোসেন, সুভাষ চন্দ্র কর, আকাশ সহ গং।
এই চিহ্নিত রাজনৈতিক ক্যাডাররা তাদের ১০/১২ জন অস্ত্রধারী সহযোগী নিয়ে লোহার রড ও ধারালো দা দিয়ে দুই ভাইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় সাংবাদিক অমিয় করের মাথা ফেটে ৫ ইঞ্চি লম্বা ও ১ ইঞ্চি গভীর মারাত্মক রক্তাক্ত ক্ষত তৈরি হয়, যেখানে পরবর্তীতে ৮টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া হামলাকারীরা তাদের হাত থেকে নগদ টাকা এবং ৫০,০০০ টাকা মূল্যের একটি স্পর্শসংবেদী (টাচ) মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
নৃশংস এই ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীরা রক্তাক্ত শার্ট ও চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রসহ আগৈলঝাড়া থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে থানা প্রশাসন মামলাটি এফআইআর (FIR) করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং দিনের পর দিন ফাইল চাপা দিয়ে নানামুখী অজুহাত ও তালবাহানা প্রদর্শন করে। থানায় কোনো প্রতিকার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে সাংবাদিক ও আইনজীবী পরিবার বরিশাল আদালতের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে গত ২৬শে জুলাই আদালত আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অনতিবিলম্বে ঘটনাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের আদেশের কপি গত ২৮শে জুলাই থানায় পৌঁছানোর পর অবশেষে পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
মামলা রেকর্ড হলেও আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের ভূমিকা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। মামলার মূল আসামিরা কোনো প্রকার আত্মগোপনে না গিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে আগৈলঝাড়া বাজারসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ এলাকায় দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি তারা নিয়মিত নিজেদের বাড়িতেই অবস্থান করছে। অথচ পুলিশ মামলার পর থেকে আজ পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো কার্যকর অভিযান বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেনি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতায় মনে হচ্ছে পুরো আইন প্রশাসন যেন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।
চিহ্নিত এই সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য সরজমিনে ঘুরে বেড়িয়ে পুরো আইন প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। তারা বুক ফুলিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘোরপাক খাচ্ছে, অথচ থানা প্রশাসন নির্লজ্জভাবে দাবি করছে তারা নাকি আসামিদের খুঁজেই পাচ্ছে না! পুলিশের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট আখ্যা দিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক অমিয় কর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আসামিরা পুলিশের চোখের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ আমাদের বলা হচ্ছে তাদের নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তায় আমাদের মনে হচ্ছে আইন নিজের গতিতে নয়, বরং অপরাধীদের গতিতে চলছে। আমাদের ওপর যেকোনো সময় আবার হামলা হতে পারে, অথচ আইন প্রশাসনের এই নিয়ে কোনো মাথাব্যথাই নেই।"
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, আইনজীবী ফোরাম এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছেন। তারা বলছেন, একজন সাংবাদিক ও একজন আইনজীবীর ওপর হামলার পর যদি প্রশাসন এমন নির্বিকার ও ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? অনতিবিলম্বে এই ঘুমন্ত প্রশাসনকে জেগে উঠে চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তার করার এবং ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি উঠেছে।
ঠিকানা
বাড়ি-১০/কে, ৬ষ্ঠ তলা, নয়াপল্টন হাউসিং, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০
মোবাইল নম্বর: ০১৪০৪৬৫০৪১
ইমেইল: admin@pratidineralo.com
সম্পাদক ও প্রকাশক
নাম: এস.এ. শাওন (এল.এল.বি)
সহ-সম্পাদক:
নাম: রাব্বি চৌধুরী
Copyright © 2026 প্রতিদিনের আলো. All rights reserved.